আমার শেরপুর ৮ মিনিটে পড়ুন
শেরপুর কোন বিভাগে, কবে জেলা হলো, কয়টি উপজেলা-ইউনিয়ন-পৌরসভা, জনসংখ্যা কত, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত কত কিলোমিটার, পোস্ট কোড কী, ঢাকা থেকে কত দূর, আর জেলাটি কী জন্য বিখ্যাত: পরীক্ষার প্রস্তুতি, চাকরির ভাইভা কিংবা নিছক কৌতূহল, শেরপুর জেলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি খোঁজা ৩০টি প্রশ্নের ছোট ও যাচাই করা উত্তর এক জায়গায়।
প্রচ্ছদের ছবি: শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। ছবি: Anup Sadi · CC BY-SA 4.0 · উৎস
এখানে শুধু তথ্যগুলো প্রশ্নোত্তরে দেওয়া হলো। জেলার প্রকৃতি, পর্যটন আর সংস্কৃতির বিস্তারিত পরিচয় পাবেন শেরপুর জেলা: সম্পূর্ণ পরিচিতি লেখায়। যেখানে দুটি সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে সংখ্যা আলাদা, সেখানে দুটিই উল্লেখ করা হয়েছে।
এক নজরে শেরপুর জেলা
| বিভাগ | ময়মনসিংহ |
|---|---|
| জেলা ঘোষণা | ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ |
| আয়তন | ১,৩৬৩.৭৬ বর্গকিমি |
| জনসংখ্যা (জনশুমারি ২০২২) | ১৫,০১,৮৫৩ জন |
| উপজেলা · থানা · পৌরসভা · ইউনিয়ন | ৫ · ৫ · ৪ · ৫২ |
| মৌজা · গ্রাম | ৪৫৭ · ৬৭৮ |
| সংসদীয় আসন | ৩টি (শেরপুর-১, ২, ৩; জাতীয় সংসদের ১৪৩–১৪৫ নম্বর আসন) |
| আন্তর্জাতিক সীমানা | প্রায় ৩০ কিমি, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে |
| জেলা শহরের পোস্ট কোড | ২১০০ |
| জিআই পণ্য | তুলশীমালা চাল (২০২৩), শেরপুরের ছানার পায়েস (২০২৪) |
পরিচয় ও প্রশাসন
১. শেরপুর জেলা কোন বিভাগে?
শেরপুর ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলার একটি (বাকি তিনটি ময়মনসিংহ, জামালপুর ও নেত্রকোনা)। ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনের আগে জেলাটি ঢাকা বিভাগের অংশ ছিল।
২. বগুড়ার শেরপুর আর এই শেরপুর কি একই জায়গা?
না। বগুড়া জেলার শেরপুর একটি উপজেলা, রাজশাহী বিভাগে। আর এখানে যে শেরপুরের কথা বলা হচ্ছে, সেটি ময়মনসিংহ বিভাগের একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা, গারো পাহাড় ও মেঘালয় সীমান্তের পাশে। খেরুয়া মসজিদ বগুড়ার শেরপুরে, এই জেলায় নয়।
৩. শেরপুর কবে জেলা হয়?
জেলা তথ্য বাতায়ন ও জেলা প্রশাসনের পটভূমি পাতা অনুযায়ী ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর জেলার মর্যাদা পায়। জেলা পুলিশের পোর্টাল আর ইংরেজি উইকিপিডিয়ার তথ্যছকে ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ লেখা আছে; তবে জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি।
৪. জেলা হওয়ার আগে শেরপুর কী ছিল?
দীর্ঘদিন শেরপুর ছিল জামালপুর মহকুমার একটি থানা; ১৮৪৫ সালে জামালপুর মহকুমা গঠনের সময় শেরপুর থানাকে তার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জেলা প্রশাসনের পটভূমি পাতা অনুযায়ী ১৯৭৯ সালের ৮ জানুয়ারি শেরপুর মহকুমায় উন্নীত হয় (বাংলা উইকিপিডিয়ায় সালটি ১৯৭৮), আর পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৮৪ সালে জেলা।
৫. শেরপুরের নাম শেরপুর হলো কীভাবে?
মোগল আমলে এলাকাটি “দশকাহনিয়া বাজু” নামে পরিচিত ছিল; ব্রহ্মপুত্র পার হওয়ার খেয়াঘাটে বছরে দশ কাহন কড়ি কর দিতে হতো বলে এই নাম। নবাবি আমলে গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজী এলাকাটি স্বাধীনভাবে শাসন করেন, তাঁর নামেই হয় শেরপুর। বিস্তারিত পড়ুন শেরপুরের ইতিহাস লেখায়।
৬. শেরপুর জেলার আয়তন কত?
জেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী ১,৩৬৩.৭৬ বর্গকিলোমিটার। বাংলাপিডিয়া ও ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় ১,৩৬৪.৬৭ বর্গকিলোমিটার লেখা আছে; পার্থক্য এক বর্গকিলোমিটারেরও কম।
৭. শেরপুরের জনসংখ্যা কত?
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী ১৫,০১,৮৫৩ জন। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে ছিল ১৩,৫৮,৩২৫ জন (বাংলাপিডিয়া)। পাঁচ উপজেলার ২০২২ সালের জনসংখ্যা যোগ করলে জেলার মোট সংখ্যার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
৮. শেরপুরে কয়টি উপজেলা ও কী কী?
পাঁচটি: শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নকলা। নিচের সারণিতে প্রতিটির আয়তন, জনসংখ্যা, ইউনিয়ন আর পোস্ট কোড।
| উপজেলা | আয়তন (বর্গকিমি) | জনসংখ্যা (২০২২) | ইউনিয়ন | পৌরসভা | পোস্ট কোড |
|---|---|---|---|---|---|
| শেরপুর সদর | ৩৭২.৮৯ | ৫,৬৩,৮৬৫ | ১৪ | আছে | ২১০০ |
| নালিতাবাড়ী | ৩২৭.৬১ | ২,৭১,৯৩৩ | ১২ | আছে | ২১১০ |
| শ্রীবরদী | ২৪৮.২৫ | ২,৭৯,১৪২ | ১০ | আছে | ২১৩০ |
| ঝিনাইগাতী | ২৪২.০৭ | ১,৭৮,১৪৮ | ৭ | নেই | ২১২০ |
| নকলা | ১৭৩.৮৪ | ২,০৮,৭৬৫ | ৯ | আছে | ২১৫০ |
৯. সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ছোট উপজেলা কোনটি?
আয়তন ও জনসংখ্যা দুই দিক থেকেই সবচেয়ে বড় শেরপুর সদর (৩৭২.৮৯ বর্গকিমি, ৫,৬৩,৮৬৫ জন)। আয়তনে সবচেয়ে ছোট নকলা (১৭৩.৮৪ বর্গকিমি), আর জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট ঝিনাইগাতী (১,৭৮,১৪৮ জন)।
১০. শেরপুরে কয়টি ইউনিয়ন?
মোট ৫২টি: সদরে ১৪টি, নালিতাবাড়ীতে ১২টি, শ্রীবরদীতে ১০টি, নকলায় ৯টি আর ঝিনাইগাতীতে ৭টি।
১১. শেরপুরে কয়টি পৌরসভা? কোনটি সবচেয়ে পুরোনো?
চারটি: শেরপুর, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও নকলা। ঝিনাইগাতী উপজেলায় এখনো পৌরসভা নেই। শেরপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৯ সালে, জমিদারি আমলে (বাংলাপিডিয়া ও জেলা তথ্য বাতায়ন), তাই এটি দেশের পুরোনো পৌরসভাগুলোর একটি।
ছবি: Anup Sadi · CC BY-SA 4.0 · উৎস
১২. শেরপুরে কয়টি থানা?
পাঁচটি, প্রতিটি উপজেলায় একটি করে: শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নকলা থানা। থানার ফোন নম্বর পাবেন শেরপুরের জরুরি নম্বর লেখায়।
১৩. শেরপুরে কয়টি গ্রাম ও মৌজা?
জেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী ৬৭৮টি গ্রাম ও ৪৫৭টি মৌজা। বাংলা উইকিপিডিয়ায় মৌজার সংখ্যা ৪৫৮টি লেখা আছে।
১৪. শেরপুরে কয়টি সংসদীয় আসন?
তিনটি: শেরপুর-১ (১৪৩ নম্বর আসন): শেরপুর সদর; শেরপুর-২ (১৪৪ নম্বর আসন): নকলা, নালিতাবাড়ী; শেরপুর-৩ (১৪৫ নম্বর আসন): শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী।
ভূগোল, সীমান্ত ও নদী
১৫. শেরপুরের চারপাশে কোন কোন জেলা?
উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণ ও পশ্চিমে জামালপুর জেলা আর পূর্বে ময়মনসিংহ জেলা (জেলা তথ্য বাতায়ন)।
১৬. ভারতের সঙ্গে শেরপুরের সীমান্ত কত কিলোমিটার?
প্রায় ৩০ কিলোমিটার, পুরোটাই মেঘালয়ের সঙ্গে। তিনটি উপজেলা সীমান্তঘেঁষা: নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী। সীমান্তের কাছে বেড়াতে গেলে বিজিবির নির্দেশনা মেনে চলুন আর পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
১৭. শেরপুরে কোনো স্থলবন্দর আছে?
হ্যাঁ, নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দর; এর ওপারে মেঘালয়ের ডালু। পাসপোর্ট-ভিসা থাকলে এই পথে ভারতে যাতায়াত করা যায়।
১৮. গারো পাহাড় শেরপুরের কোন অংশে?
জেলার উত্তরের সীমান্তঘেঁষা অংশে, অর্থাৎ নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর উত্তরে গারো পাহাড়ের পাদদেশ। দক্ষিণের সদর আর নকলা মূলত সমতল ও চরাঞ্চল। পাহাড়ি এলাকার বেড়ানোর জায়গাগুলো দেখুন গজনী, মধুটিলা, রাজার পাহাড় আর পানিহাটা-তারানি গাইডে।
১৯. শেরপুরের প্রধান নদী কোনগুলো?
প্রধান নদ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র। অন্য উল্লেখযোগ্য নদী ভোগাই, কংশ, সোমেশ্বরী, চেল্লাখালী, মহারশি, মালিঝি, মৃগী, ঝিনাই ও দশানী (জেলা তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া ও বাংলা উইকিপিডিয়া)। মেঘালয় থেকে নেমে আসা ভোগাই আর চেল্লাখালী বর্ষায় হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে ফুঁসে ওঠে; ২০২৪ সালের অক্টোবরের বন্যা এর বড় উদাহরণ।
ছবি: Anup Sadi · CC BY-SA 4.0 · উৎস
২০. ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের সঙ্গে শেরপুরের কী সম্পর্ক?
১৮৯৭ সালের বড় ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্রের মূল স্রোত পশ্চিমে সরে যমুনায় মেশে, ফলে শেরপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ক্ষীণ হয়ে পড়ে। এই ভূমিকম্পে শহরের অনেক পুরোনো স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় (বাংলা ও ইংরেজি উইকিপিডিয়া)।
যাতায়াত ও যোগাযোগ
২১. শেরপুরের পোস্ট কোড কত?
জেলা শহর ও সদর উপজেলার পোস্ট কোড ২১০০। অন্য উপজেলা সদরের পোস্ট কোড: নালিতাবাড়ী ২১১০, ঝিনাইগাতী ২১২০, শ্রীবরদী ২১৩০ আর নকলা ২১৫০। ইউনিয়ন পর্যায়ের শাখা ডাকঘরের কোড আলাদা হতে পারে।
২২. ঢাকা থেকে শেরপুর কত কিলোমিটার?
পথভেদে ১৮৩ থেকে ২২৭ কিলোমিটার। বিআরটিএর সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভাড়ার তালিকায় মহাখালী থেকে ময়মনসিংহ-নকলা হয়ে ১৮৩ কিমি, টাঙ্গাইল-জামালপুর হয়ে ১৮৮ কিমি আর ময়মনসিংহ-জামালপুর হয়ে ২২৭ কিমি ধরা হয়েছে। বাসে সাধারণত ৪–৫ ঘণ্টা লাগে; নন-এসি বাসের সরকারি ভাড়া পথভেদে ৪৪১–৫৪৬ টাকা।
২৩. শেরপুরে কি ট্রেন যায়?
না। শেরপুর জেলায় কোনো রেলপথ বা রেলস্টেশন নেই। ট্রেনে এলে নামতে হয় পাশের জেলা জামালপুরে; সেখান থেকে সড়কপথে শেরপুর শহর প্রায় ১৭ কিলোমিটার।
শেরপুর কী জন্য বিখ্যাত
২৪. শেরপুর কী জন্য বিখ্যাত?
জেলা প্রশাসনের ব্র্যান্ডিং স্লোগানেই উত্তরটা আছে: “পর্যটনের আনন্দে, তুলশীমালার সুগন্ধে”। গারো পাহাড়ের গজনী-মধুটিলার মতো পর্যটনকেন্দ্র, সুগন্ধি তুলশীমালা চাল, শতবর্ষী ছানার পায়েস, মোগল আমলের মসজিদ, জমিদারবাড়ি আর গারো-হাজং-কোচদের সংস্কৃতি মিলে শেরপুরের পরিচয়।
২৫. শেরপুরের জিআই পণ্য কয়টি?
এখন পর্যন্ত দুটি। তুলশীমালা চাল ২০২৩ সালের জুনে দেশের ১৪তম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের সনদ পায় (নিবন্ধন সনদ ১২ জুন ২০২৩)। শেরপুরের ছানার পায়েস জিআই সনদ পায় ৫ ডিসেম্বর ২০২৪; বিডিনিউজ২৪ একে দেশের ৪৪তম জিআই পণ্য বলেছে। কোথায় খাবেন, তা জানতে পড়ুন শেরপুরের বিখ্যাত খাবার।
২৬. শেরপুরের প্রধান দর্শনীয় স্থান কোনগুলো?
- গজনী অবকাশ কেন্দ্র (ঝিনাইগাতী)
- মধুটিলা ইকোপার্ক (নালিতাবাড়ী)
- রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা (শ্রীবরদী)
- পানিহাটা-তারানি ও ভোগাই নদী (নালিতাবাড়ী)
- ঘাগড়া খান বাড়ি মসজিদ, মাইসাহেবা মসজিদ, পৌনে তিন আনী জমিদারবাড়ি, গোপীনাথ-অন্নপূর্ণা মন্দির ও গড়জরিপা
শীতের দলবদ্ধ ভ্রমণের জন্য দেখুন শেরপুরের পিকনিক স্পট, আর এক বা দুই দিনের রুট ও খরচের হিসাব পাবেন শেরপুর ভ্রমণ পরিকল্পনা লেখায়। পথ চিনে নিতে দেখুন আমাদের মানচিত্র।
২৭. শেরপুরের সবচেয়ে পুরোনো টিকে থাকা স্থাপনা কোনটি?
তারিখসহ টিকে থাকা স্থাপনার মধ্যে ঝিনাইগাতীর ঘাগড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ অন্যতম প্রাচীন: দরজার ওপরের আরবি শিলালিপিতে ১০২৮ হিজরি (১৬১৮–১৯ খ্রিষ্টাব্দ) লেখা। ১৯৯৯ সাল থেকে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে। আরও পুরোনো গড়জরিপা দুর্গের (১৪৯১ সালে দখল) মাটির প্রাচীরের অবশেষ কতটা টিকে আছে, তা নিশ্চিত নয়। বিস্তারিত: শেরপুরের ঐতিহাসিক স্থান।
২৮. শেরপুরে কোন কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাস?
গারো, কোচ, হাজং, হদি, বানাই ও বর্মণ জনগোষ্ঠী; পাঁচ উপজেলাতেই কমবেশি, তবে বেশি গারো পাহাড়ঘেঁষা এলাকায়। শ্রীবরদীর বাবেলাকোনায় তাঁদের সংস্কৃতিচর্চার কালচারাল একাডেমি ও জাদুঘর আছে।
মুক্তিযুদ্ধ
২৯. শেরপুর মুক্ত দিবস কবে?
৭ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী শেরপুর ছেড়ে জামালপুরের দিকে সরে যায়। ৭ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা হেলিকপ্টারে শহরের পৌর পার্কে (আজকের শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক) নেমে শেরপুরকে মুক্ত ঘোষণা করেন। বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী ঝিনাইগাতী মুক্ত হয় ৪ ডিসেম্বর, শ্রীবরদী ৬ ডিসেম্বর।
৩০. সোহাগপুর বিধবাপল্লী কী?
নালিতাবাড়ীর কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা ১৮৭ জনকে হত্যা করে (বাংলা উইকিপিডিয়া ও প্রথম আলো; বাংলাপিডিয়ায় ২৭ জুলাই ও ১৮৫ জন)। পুরুষশূন্য গ্রামটি “বিধবাপল্লী” নামে পরিচিত হয়, পরে এর নাম দেওয়া হয় “বীরকন্যা পল্লী”। এই গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আলবদর নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যা ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল কার্যকর হয়। মুক্তিযুদ্ধে শেরপুর ছিল ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে; বিস্তারিত পড়ুন শেরপুরের ইতিহাস লেখায়।
আরও কাজের তথ্য
- থানা, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের নম্বর: শেরপুরের জরুরি নম্বর
- শেরপুরের নামাজের সময়সূচি: নামাজের সময়
- জেলার পূর্ণ পরিচিতি: শেরপুর জেলা গাইড
সূত্র
- শেরপুর জেলা তথ্য বাতায়ন: এক নজরে জেলা, জেলার পটভূমি, জেলা প্রশাসনের পটভূমি, জেলা ব্র্যান্ডিং (দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬)
- বাংলাপিডিয়া: Sherpur District, শেরপুর জেলা
- বাংলা উইকিপিডিয়া: শেরপুর জেলা, তুলশীমালা চাল; ইংরেজি উইকিপিডিয়া: Sherpur District, Muhammad Kamaruzzaman
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (উপজেলাভিত্তিক সংখ্যা উইকিপিডিয়ার উদ্ধৃতি থেকে)
- বিআরটিএ, মহাখালী থেকে আন্তঃজেলা বাস ভাড়ার তালিকা, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- বিডিনিউজ২৪: শেরপুরের ছানার পায়েস জিআই স্বীকৃতি (ডিসেম্বর ২০২৪)
- প্রথম আলো: টাঙ্গাইল ও শেরপুরের একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা (হালনাগাদ ১৭ মার্চ ২০২৪); খবর সংযোগ: আজ ঐতিহাসিক শেরপুর মুক্ত দিবস (৭ ডিসেম্বর ২০২৫)
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। সরকারি পরিসংখ্যান বা প্রশাসনিক কাঠামো বদলালে এই লেখা হালনাগাদ করা হবে; কোনো তথ্যে ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানান।