আমার শেরপুর ৯ মিনিটে পড়ুন
স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, বিয়ে নিবন্ধন, জমির নামজারি, সব কাজেই এখন অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগে। শেরপুরে কোথায় আবেদন করবেন, অনলাইনে ফরম পূরণের ধাপ, বয়সভেদে ফি আর কাগজপত্র, ভুল থাকলে সংশোধনের নিয়ম আর সনদ অনলাইনে যাচাইয়ের উপায় এই লেখায় দেওয়া হলো।
ফি ও নিয়ম নেওয়া হয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) এর ওয়েবসাইট আর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮ থেকে। নিয়ম বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে bdris.gov.bd দেখে নিন।
এক নজরে
| আবেদনের ওয়েবসাইট | bdris.gov.bd |
|---|---|
| কোথায় জমা দেবেন | গ্রামে নিজ ইউনিয়ন পরিষদ; পৌর এলাকায় পৌরসভা কার্যালয় |
| ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন | বিনা ফিতে |
| ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর | ২৫ টাকা |
| ৫ বছরের পরে | ৫০ টাকা |
| সনদ পাওয়ার সময় | কাগজ ঠিক থাকলে নিবন্ধক সর্বোচ্চ ৫ কার্যদিবসে নিবন্ধন করবেন; আবেদন জমার রসিদে সম্ভাব্য তারিখ লেখা থাকে (সাধারণত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে) |
| সনদ যাচাই | everify.bdris.gov.bd |
শেরপুরে কোথায় জন্ম নিবন্ধন করবেন
জন্ম নিবন্ধন করেন “নিবন্ধক”: ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি), পৌর এলাকায় পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক। আবেদন করবেন যেখানে জন্ম হয়েছে অথবা যেখানে স্থায়ী ঠিকানা, সেই ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায়। শেরপুর জেলায় সিটি কর্পোরেশন বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড নেই, তাই এখানে এই দুই ধরনের অফিসই প্রযোজ্য। প্রবাসে জন্ম হলে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে নিবন্ধন হয়।
চারটি পৌরসভা
| পৌরসভা | যোগাযোগ |
|---|---|
| শেরপুর পৌরসভা | শেরপুর পৌরসভা কার্যালয়, গোপালবাড়ী, শেরপুর টাউন, শেরপুর; ফোন ০৯৩১৬১৩৬৮, ০৯৩১৬১২১০, ০৯৩১৬১১৩৮; sherpurpourashava.gov.bd |
| নকলা পৌরসভা | নকলা, শেরপুর; ফোন ০১৭১৫-৮১৪৭৪৮ (পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা; বদলি হলে নম্বর বদলাতে পারে) |
| নালিতাবাড়ী পৌরসভা | নালিতাবাড়ী পৌর শহর; সরকারি সূত্রে ফোন নম্বর পাওয়া যায়নি |
| শ্রীবরদী পৌরসভা | শ্রীবরদী পৌর শহর; সরকারি সূত্রে ফোন নম্বর পাওয়া যায়নি |
৫২টি ইউনিয়ন পরিষদ
গ্রামের বাসিন্দারা নিজ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে (ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারসহ) আবেদন জমা দেবেন। যে ইউনিয়নের নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে, নামে চাপ দিলে সেটি খুলবে; সেখানে চেয়ারম্যান ও সচিবের যোগাযোগ পাওয়া যায়।
| উপজেলা | ইউনিয়ন |
|---|---|
| শেরপুর সদর (১৪) | কামারেরচর, চরশেরপুর, বাজিতখিলা, গাজিরখামার, ধলা, পাকুরিয়া, ভাতশালা, লছমনপুর, চরমোচারিয়া, চরপক্ষীমারী, বলাইরচর, কামারিয়া, রৌহা, বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি |
| নালিতাবাড়ী (১২) | পোড়াগাঁও, নন্নী, রাজনগর, নয়াবিল, রামচন্দ্রকুড়া মন্ডলিয়াপাড়া, কাকরকান্দি, নালিতাবাড়ী, রূপনারায়ণকুড়া, মরিচপুরান, যোগানিয়া, বাঘবেড়, কলসপাড় |
| শ্রীবরদী (১০) | সিংগাবরুণা, রাণীশিমুল, কাকিলাকুড়া, তাতিহাটী, গোসাইপুর, শ্রীবরদী, ভেলুয়া, খড়িয়া কাজিরচর, কুড়িকাহনীয়া, গড়জরিপা |
| ঝিনাইগাতী (৭) | কাংশা, ধানশাইল, নলকুড়া, গৌরিপুর, ঝিনাইগাতী সদর, হাতিবান্দা, মালিঝিকান্দা |
| নকলা (৯) | গণপদ্দী, নকলা, উরফা, গৌড়দ্বার, বানেশ্বর্দী, পাঠাকাটা, টালকি, চরঅষ্টধর, চন্দ্রকোনা |
ইউনিয়ন পরিষদের অবস্থান খুঁজতে আমার শেরপুর ম্যাপ দেখুন।
জন্ম নিবন্ধনের সরকারি ফি
| সেবা | ফি |
|---|---|
| জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন | বিনা ফিতে |
| জন্মের ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিবন্ধন | ২৫ টাকা |
| জন্মের ৫ বছর পর নিবন্ধন | ৫০ টাকা |
| জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন | ১০০ টাকা |
| নাম, মা-বাবার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি (জন্মতারিখ ছাড়া) সংশোধনের আবেদন | ৫০ টাকা |
| বাংলা ও ইংরেজিতে মূল সনদ, বা সংশোধনের পর সনদের কপি | বিনা ফিতে |
| বাংলা ও ইংরেজিতে সনদের নকল (ডুপ্লিকেট কপি) | ৫০ টাকা |
সূত্র: রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের “জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ফি” পাতা (হালনাগাদ ৪ এপ্রিল ২০২৬)। ফি নিবন্ধক কার্যালয়ে বা অনলাইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে দিন এবং রসিদ নিন। কম্পিউটারে ফরম পূরণ বা প্রিন্টের জন্য ডিজিটাল সেন্টার আলাদা সার্ভিস চার্জ নিতে পারে; সেটি সরকারি ফি নয়।
নতুন জন্ম নিবন্ধন: ধাপে ধাপে
- bdris.gov.bd/br/application খুলুন। কোনো লগইন লাগে না।
- নিবন্ধন কার্যালয় বাছুন: জন্মস্থান অথবা স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী দেশ বাংলাদেশ, বিভাগ ময়মনসিংহ, জেলা শেরপুর, উপজেলা, তারপর ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা বেছে নিন।
- নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির তথ্য: নাম বাংলা ও ইংরেজিতে, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, জন্মস্থান। নামের বানান পরে বদলানো ঝামেলার, তাই এসএসসি সনদ বা অন্য কাগজের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন।
- মা-বাবার তথ্য: নাম (বাংলা-ইংরেজি) আর জাতীয়তা। মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন নম্বর বা এনআইডি নম্বর থাকলে দিন; এতে দ্বৈত নিবন্ধন এড়ানো যায় আর ভবিষ্যতে পারিবারিক তথ্য মেলাতে সুবিধা হয়।
- ঠিকানা: জন্মস্থান, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা।
- আবেদনকারী ও মোবাইল নম্বর: কে আবেদন করছেন (নিজে, মা-বাবা বা অভিভাবক) আর একটি সচল মোবাইল নম্বর দিন।
- কাগজ আপলোড করুন (নিচের তালিকা দেখুন), প্রিভিউ দেখে জমা দিন। আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করুন; এতে একটি আবেদন আইডি থাকবে।
- অফিসে জমা দিন: প্রিন্ট করা আবেদন, মূল কাগজপত্র আর ফি নিয়ে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় যান। অনলাইনে জমার পর দেরি না করে কাগজ জমা দিন; দীর্ঘদিন জমা না দিলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।
- সনদ সংগ্রহ: নিবন্ধক যাচাই করে নিবন্ধন করলে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বরসহ বাংলা ও ইংরেজি সনদ দেওয়া হয়। কাগজ জমার পর নিবন্ধক রসিদে সনদ দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ লিখে দেবেন।
আবেদনের অবস্থা দেখতে bdris.gov.bd-র আবেদনের অবস্থা পাতায় আবেদন আইডি দিন।
বয়সভেদে কী কী কাগজ লাগে
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৯ অনুযায়ী:
সব বয়সের জন্য
- স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ: নিজের বা মা-বাবা/দাদা-দাদির নামে বাড়ির হালনাগাদ হোল্ডিং কর পরিশোধের রসিদ, অথবা মা-বাবা/দাদা-দাদির এনআইডি বা পাসপোর্টে লেখা স্থায়ী ঠিকানা
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
- আগে কোথাও জন্ম নিবন্ধন হয়নি, আবেদন ফরমে এই ঘোষণা
- নদীভাঙনে স্থায়ী ঠিকানা হারালে নতুন বসতির জমি বা বাড়ি কেনার দলিল, খাজনা বা করের রসিদ
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে
- হাসপাতাল বা ক্লিনিকের ছাড়পত্র (ডিসচার্জ সার্টিফিকেট), অথবা সেখান থেকে দেওয়া জন্মসংক্রান্ত সনদের সত্যায়িত কপি
- বাড়িতে জন্ম হলে প্রশিক্ষিত ধাত্রী (বার্থ অ্যাটেনডেন্ট) এর প্রত্যয়ন বা অন্য প্রমাণপত্র
৪৫ দিন থেকে ৫ বছর
- ওপরের কাগজের সঙ্গে ইপিআই (টিকা) কর্মীর প্রত্যয়ন অথবা টিকা কার্ডের কপি
৫ বছরের বেশি বয়সে
- প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদ, অথবা
- বয়স প্রমাণের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র (যেমন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক)
মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন কি বাধ্যতামূলক? ২০২১ সালে ২০০১ সালের পরে জন্ম নেওয়াদের নিবন্ধনে মা-বাবার জন্ম নিবন্ধন সনদ চাওয়া হতো। প্রথম আলোর প্রতিবেদন (১৫ আগস্ট ২০২২) অনুযায়ী ২৭ জুলাই ২০২২ থেকে অনলাইন সফটওয়্যারে এই শর্ত তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে মা-বাবার নম্বর দিলে সন্তানের নিবন্ধন আর পরে এনআইডি-পাসপোর্টে তথ্য মেলানো সহজ হয়, তাই থাকলে দিয়ে দিন। কোনো কার্যালয় ভিন্ন কথা বললে কারণ জেনে নিন।
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন
নামের বানান, মা-বাবার নাম, ঠিকানা বা জন্মতারিখে ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করা যায়। সংশোধন করতে হয় যে কার্যালয়ে নিবন্ধন হয়েছিল সেখান থেকেই।
- bdris.gov.bd/br/correction খুলে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর আর জন্মতারিখ দিন।
- কোন তথ্য বদলাবেন তা বেছে নিয়ে সঠিক তথ্য লিখুন এবং সংশোধনের কারণ দিন।
- প্রমাণপত্র আপলোড করুন: যেমন এসএসসি সনদ, এনআইডি, মা-বাবার এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট।
- আবেদন জমা দিয়ে প্রিন্ট নিন। প্রিন্ট, মূল কাগজ আর ফি (জন্মতারিখ ১০০ টাকা, অন্য তথ্য ৫০ টাকা) নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় জমা দিন।
- যাচাই শেষে অনুমোদন হলে সংশোধিত সনদ বিনা ফিতে পাবেন।
কে অনুমোদন করেন
- ছোটখাটো ভুল (যেমন নামের বানান, করণিক ভুল): স্থানীয় নিবন্ধক, অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা যাচাই করে সংশোধন করেন।
- জন্মতারিখসহ বড় সংশোধন: রেজিস্ট্রার জেনারেলের ১৮ জানুয়ারি ২০২৪-এর অফিস আদেশ অনুযায়ী ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভা এলাকার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জন্মসালসহ জন্মতারিখ সংশোধন অনুমোদন করতে পারেন। আগে সাল বদলাতে ঢাকায় রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে যেতে হতো। শেরপুরের পাঁচ উপজেলা ও চার পৌরসভা এই নিয়মের আওতায়।
- আপিল: সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে আপিল করা যায়। প্রবাসীদের আবেদন সরাসরি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে যায়।
অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রথম আলোর ২৩ জানুয়ারি ২০২৪-এর প্রতিবেদন থেকে; এরপর বদল হয়েছে কি না নিশ্চিত হতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জেনে নিন।
সাবধান: পাসপোর্টে বয়স বদলাতে বারবার নতুন জন্ম নিবন্ধন বা সংশোধন ব্যবহারের প্রবণতা ঠেকাতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ২০২৬ সালে নির্দেশনা দিয়েছে যে জন্ম নিবন্ধন বা এনআইডির তথ্যে পাসপোর্টে শুধু একবার বয়স বদলানো যাবে। একাধিক জন্ম নিবন্ধন থাকলে অপ্রয়োজনীয়টি বাতিলের আবেদন করুন; মিথ্যা তথ্যে নিবন্ধন আইনত দণ্ডনীয়।
অনলাইনে সনদ যাচাই ও কপি
- যাচাই: everify.bdris.gov.bd-তে ১৭ সংখ্যার নিবন্ধন নম্বর আর জন্মতারিখ দিলে তথ্য দেখায়। এখানে তথ্য না এলে সেটি “অনলাইন নিবন্ধন” নয়; স্কুল, পাসপোর্ট বা এনআইডির কাজে সমস্যা হবে।
- পুরোনো হাতে লেখা বা ১৭ সংখ্যার কম নম্বরের সনদ: পুরোনো সনদ নিয়ে নিবন্ধকের কার্যালয়ে গেলে অনলাইনে তুলে ১৭ সংখ্যার নম্বরসহ নতুন সনদ দেওয়া হয়।
- সনদ হারালে বা নতুন কপি লাগলে: bdris.gov.bd-র রিপ্রিন্ট অপশনে আবেদন করে নিবন্ধক কার্যালয় থেকে কপি নিন; নকল কপির ফি ৫০ টাকা।
- ইংরেজি সংস্করণ: নিয়ম অনুযায়ী সনদ বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই দিতে হয়। পুরোনো সনদে ইংরেজি অংশ না থাকলে সেটি সংশোধন হিসেবে আবেদন করে যোগ করাতে হয়; পাসপোর্টের জন্য এটি জরুরি।
যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়
- ইংরেজি নামের বানান এক কাগজে এক রকম, আরেক কাগজে আরেক রকম লেখা।
- অনুমানে জন্মতারিখ বসানো; পরে এসএসসি সনদের সঙ্গে না মেলায় সংশোধনে দৌড়াতে হয়।
- একই ব্যক্তির দুই জায়গায় দুটি নিবন্ধন করা।
- অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত সময়ে কার্যালয়ে কাগজ জমা না দেওয়া।
- ভুল ইউনিয়ন বা পৌরসভা বেছে নেওয়া।
- সনদ পেয়ে everify.bdris.gov.bd-তে যাচাই না করা।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
শিশুর জন্ম ঢাকার হাসপাতালে, বাড়ি শেরপুরে। কোথায় নিবন্ধন করব?
জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা, যেকোনো একটির নিবন্ধক কার্যালয়ে আবেদন করা যায়। শেরপুরের স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী নিজের ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় করাই সাধারণত সুবিধাজনক।
৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন কেন জরুরি?
তখন নিবন্ধন সম্পূর্ণ বিনা ফিতে হয় এবং কাগজও কম লাগে (শুধু হাসপাতালের ছাড়পত্র বা জন্মের প্রমাণ আর ঠিকানার প্রমাণ)।
বিবাহিত নারী কোথায় দেরিতে নিবন্ধন করবেন?
জন্মস্থানে অথবা স্বামীর স্থায়ী ঠিকানার নিবন্ধক কার্যালয়ে করা যায়। সনদে মা-বাবার নাম থাকবে, স্বামীর নাম লেখা হয় না।
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন কতবার করা যায়?
বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন (২০২৫, হালনাগাদ ২০২৬) অনুযায়ী একটি নিবন্ধন সর্বোচ্চ তিনবার সংশোধন করা যায়, আর যাচাই শেষে সাধারণত সাত থেকে ১৫ দিন লাগে। জন্মতারিখ বদলের ক্ষেত্রে শক্ত প্রমাণ (যেমন এসএসসি সনদ) লাগে।
মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য কী লাগে?
একই bdris.gov.bd-তে মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করা যায়; ফি জন্ম নিবন্ধনের মতোই। নিয়ম অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন ছাড়া কারো মৃত্যু নিবন্ধন করা যায় না। ওয়ারিশ সনদ ও জমির নামজারিতে মৃত্যু সনদ লাগে।
দরকারি লিংক
- নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন
- জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন
- আবেদনের অবস্থা
- জন্ম নিবন্ধন যাচাই
- রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (orgbdr.gov.bd)
শেরপুরের উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিচিতি দেখুন শেরপুর জেলা গাইড-এ, আর ইউএনও অফিসসহ সরকারি দপ্তরের ফোন নম্বর শেরপুরের জরুরি ফোন নম্বর লেখায়।
সূত্র
- রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ফি (হালনাগাদ ৪ এপ্রিল ২০২৬), প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (হালনাগাদ ৪ এপ্রিল ২০২৬), জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮ (বিধি ৯ ও ১৫)
- প্রথম আলো: জন্মসাল সংশোধনেরও ক্ষমতা পেলেন ডিসি-ইউএনও (২৩ জানুয়ারি ২০২৪), জন্মনিবন্ধনে মা-বাবার সনদ আর লাগবে না (১৫ আগস্ট ২০২২)
- বিডিনিউজ২৪: যেভাবে করবেন জন্ম নিবন্ধন তথ্যের সংশোধন (২১ অক্টোবর ২০২৫, হালনাগাদ ২৬ আগস্ট ২০২৬)
- শেরপুর জেলা তথ্য বাতায়ন: উপজেলা ও ইউনিয়নের তালিকা; শেরপুর পৌরসভার যোগাযোগ; নকলা উপজেলা কর্মকর্তা তালিকা
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। ফি ও নিয়ম সরকার বদলাতে পারে; আবেদনের আগে bdris.gov.bd বা নিজের ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভায় যাচাই করে নিন।