আমার শেরপুর ৯ মিনিটে পড়ুন
শেরপুর জেলার মানুষকে পাসপোর্টের জন্য আর ময়মনসিংহ বা ঢাকা যেতে হয় না। নবীনগর নয়াপাড়ায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকেই ই-পাসপোর্টের ছবি-আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) দেওয়া আর পাসপোর্ট হাতে নেওয়া যায়। এই লেখায় ধাপে ধাপে দেখানো হলো অনলাইনে আবেদন, সরকারি ফি, কোন বয়সে কী কাগজ লাগে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নতুন নিয়ম আর পাসপোর্ট কবে হাতে পাবেন তা জানার উপায়।
ফি আর নিয়মগুলো নেওয়া হয়েছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, শেরপুরের তথ্য বাতায়নে প্রকাশিত নোটিশ থেকে। সরকার যেকোনো সময় ফি বা নিয়ম বদলাতে পারে, তাই টাকা জমা দেওয়ার আগে epassport.gov.bd-তে একবার মিলিয়ে নিন।
আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, শেরপুর: এক নজরে
| ঠিকানা | নবীনগর নয়াপাড়া, শেরপুর-নকলা সড়ক, শেরপুর (পোস্ট কোড ২১০০) |
|---|---|
| কীভাবে যাবেন | শহরের যেকোনো জায়গা থেকে অটোরিকশায় নবীনগর বাসস্ট্যান্ড; সেখান থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর-নকলা সড়কের পূর্ব পাশে অফিস। |
| ফোন | ০২৯৯৭৭৮১০৬৩, ০১৭৩৩-৩৯৩৩৪১ |
| ইমেইল | rposherpur@passport.gov.bd |
| ওয়েবসাইট | passport.sherpur.gov.bd |
| পাসপোর্ট কল সেন্টার | ১৬৪৪৫ (জাতীয়) |
| অফিস সময় | সরকারি কর্মদিবস (রবি থেকে বৃহস্পতিবার)। অফিসের ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট সময় প্রকাশ করা নেই; বায়োমেট্রিকের সময় আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপে লেখা থাকে। সরকারি ছুটির দিনে অফিস বন্ধ। |
শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নকলা, পাঁচ উপজেলার বাসিন্দারাই এই অফিসে আবেদন করেন। অনলাইন ফরমে জেলা “শেরপুর” আর নিজের থানা বেছে নিলে পাসপোর্ট অফিস হিসেবে শেরপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস আসবে। অফিসটি মানচিত্রে দেখতে আমার শেরপুর ম্যাপ ব্যবহার করুন।
শুরুর আগে: কোন বয়সে কোন পরিচয়পত্র লাগে
| আবেদনকারীর বয়স | যে পরিচয়পত্রের তথ্যে পাসপোর্ট হবে |
|---|---|
| ১৮ বছরের কম | অনলাইনে নিবন্ধিত জন্ম নিবন্ধন সনদ (ইংরেজি সংস্করণসহ)। সঙ্গে মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র। |
| ১৮ থেকে ২০ বছর | জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ |
| ২০ বছরের বেশি | জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক |
অনলাইন ফরমে নাম, মা-বাবার নাম, জন্মতারিখ আর জন্মস্থান হুবহু এনআইডি (বা জন্ম নিবন্ধন) অনুযায়ী লিখতে হবে। বানান এক অক্ষর আলাদা হলেও আবেদন আটকে যেতে পারে। এনআইডিতে ভুল থাকলে আগে নির্বাচন অফিসে এনআইডি সংশোধন করুন, তারপর পাসপোর্টের আবেদন করুন। শিশুর জন্ম নিবন্ধন না থাকলে বা ভুল থাকলে আগে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে সেটা ঠিক করে নিন।
অনলাইনে আবেদনের ধাপ
- অ্যাকাউন্ট খুলুন: epassport.gov.bd-তে গিয়ে “Apply Online” চাপুন। জেলা শেরপুর ও নিজের থানা বেছে নিন, তারপর ইমেইল আর মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। ইমেইলে আসা লিংকে চাপ দিয়ে অ্যাকাউন্ট চালু করুন।
- ফরম পূরণ করুন: পাসপোর্টের ধরন (সাধারণ), ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, পেশা, মা-বাবা ও জরুরি যোগাযোগের তথ্য দিন। সব তথ্য এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন।
- পাতা, মেয়াদ ও ডেলিভারি বাছুন: ৪৮ না ৬৪ পাতা, ৫ না ১০ বছর, আর রেগুলার, এক্সপ্রেস বা সুপার এক্সপ্রেস। নিচের ফি টেবিল দেখুন।
- ফি দিন: ফরমের পেমেন্ট ধাপে অনলাইনে (কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং) ফি পরিশোধ করুন। অনলাইনে দিলে পেমেন্টের তথ্য আবেদনের সঙ্গে নিজে থেকেই যুক্ত হয়ে যায়।
- বায়োমেট্রিকের তারিখ নিন: ক্যালেন্ডার থেকে শেরপুর অফিসের খালি তারিখ ও সময় বেছে নিন।
- প্রিন্ট করুন: আবেদন জমা দিয়ে “Application Summary” আর পুরো আবেদনপত্র প্রিন্ট করে রাখুন। এই দুটি কাগজ নিয়েই অফিসে যেতে হবে।
- অফিসে যান: নির্ধারিত দিনে কাগজপত্র নিয়ে শেরপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যান। কাগজ যাচাইয়ের পর ছবি, দশ আঙুলের ছাপ আর চোখের মণির ছবি (আইরিস) নেওয়া হবে।
- ডেলিভারি স্লিপ রাখুন: বায়োমেট্রিক শেষে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হয়। পাসপোর্ট তুলতে এটি লাগবে, তাই হারাবেন না।
- পাসপোর্ট তুলুন: পাসপোর্ট তৈরি হলে এসএমএস ও ইমেইল আসে। ডেলিভারি স্লিপ আর এনআইডি নিয়ে নিজে গিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি (দেশে আবেদন, ১৫% ভ্যাটসহ)
| পাতা ও মেয়াদ | রেগুলার | এক্সপ্রেস | সুপার এক্সপ্রেস |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পাতা, ৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পাতা, ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পাতা, ৫ বছর | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা |
| ৬৪ পাতা, ১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
সূত্র: ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ফি-কাঠামো, ইউএনবি/দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে প্রকাশিত (৪ মার্চ ২০২৫)। অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দেশে আবেদনের ফি বদলের কোনো সরকারি ঘোষণা আমরা পাইনি, তবে epassport.gov.bd সরাসরি যাচাই করা যায়নি; ফি দেওয়ার আগে পোর্টালে দেখানো অঙ্কই চূড়ান্ত ধরুন। বিদেশের দূতাবাসে আবেদনের ফি আলাদা।
কোন ডেলিভারিতে কত দিন লাগে
- রেগুলার: বায়োমেট্রিকের দিন থেকে অন্তত ১৫ কর্মদিবস (চাপ বেশি থাকলে প্রায় ২১ কর্মদিবস পর্যন্ত)।
- এক্সপ্রেস: সাধারণত ৭ থেকে ১০ কর্মদিবস।
- সুপার এক্সপ্রেস: ২ কর্মদিবস। সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট কোন অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে, তা আবেদনের সময় পোর্টালে দেখে নিন বা শেরপুর অফিসে ফোন করে জেনে নিন।
এই সময় ধরা হয় বায়োমেট্রিক দেওয়ার দিন থেকে, অনলাইন আবেদনের দিন থেকে নয়। তথ্যে গরমিল থাকলে বা অতিরিক্ত যাচাই লাগলে আরও দেরি হতে পারে।
যেসব কাগজ সঙ্গে নেবেন
- অনলাইন আবেদনের সামারি পাতা ও পুরো আবেদনপত্রের প্রিন্ট
- ফি পরিশোধের রসিদ বা প্রমাণ
- মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ফটোকপি; ১৮ বছরের কম হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
- শিশুর ক্ষেত্রে মা ও বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি; ৬ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য ধূসর পটভূমির ল্যাব-প্রিন্ট ছবি
- সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানি), ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে
- পুরোনো পাসপোর্ট থাকলে মূল কপি (রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে)
- বিবাহিত হলে এবং ফরমে স্বামী/স্ত্রীর নাম দিলে কাবিননামা বা বিয়ের সনদ; তালাকপ্রাপ্ত হলে তালাকনামা
- পেশার প্রমাণ (পেশা অনুযায়ী): ছাত্রছাত্রীর আইডি কার্ড বা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়ন; বেসরকারি চাকরিজীবীর অফিসের প্রত্যয়ন; কৃষকের জমির কাগজ; ব্যবসায়ীর ট্রেড লাইসেন্স; চালক, প্রকৌশলী, চিকিৎসকের মতো পেশাজীবীর সংশ্লিষ্ট সনদ
- সরকারি চাকরিজীবী হলে অনাপত্তিপত্র (এনওসি), জিও, পিআরএল আদেশ বা পেনশন বইয়ের যেকোনো একটি
- দত্তক বা অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদেশের কপি
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র সত্যায়ন (অ্যাটেস্টেড) করার দরকার নেই।
পুলিশ ভেরিফিকেশন: এখনকার নিয়ম
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে “পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা শিথিলকরণ” শিরোনামে পরিপত্র জারি করে। শেরপুর পাসপোর্ট অফিসও তাদের ওয়েবসাইটে এটি নোটিশ হিসেবে দিয়েছে। পরিপত্রের মূল কথা:
- নতুন পাসপোর্ট: অনলাইনে যাচাই হওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে, আর অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ভিত্তিতে, পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট দিতে হবে।
- বিদেশে থাকা দ্বিতীয়/তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি: অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ভিত্তিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট।
- রি-ইস্যুতে তথ্য বদল: পুরোনো পাসপোর্টের সঙ্গে নাম, মা-বাবার নাম, জন্মতারিখ বা জন্মস্থান না মিললে অনলাইনে যাচাই হওয়া এনআইডি (অপ্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন) অনুযায়ী পাসপোর্ট দেওয়া যাবে।
তবে বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ তদন্ত চাইলে পুলিশ আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের “সতর্কীকরণ নোটিশ” অনুযায়ী, পুলিশ তদন্তের নামে একটি প্রতারক চক্র ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে কল করে বিকাশে টাকা চাইছে। প্রকৃত তদন্ত হলে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি আপনার সঙ্গে দেখা করবেন। ফোনে কেউ পাসপোর্টের ভেরিফিকেশনের জন্য টাকা চাইলে দেবেন না; প্রয়োজনে ৯৯৯ বা শেরপুর জেলা পুলিশের নম্বরে জানান (নম্বরগুলো আছে শেরপুরের জরুরি নম্বর লেখায়)।
পাসপোর্টে বয়স বা জন্মতারিখ বদলানো
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের চিঠি (শেরপুর অফিসের নোটিশ বোর্ডে ৩১ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত) অনুযায়ী:
- জন্ম নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আট বছর পর্যন্ত বয়স পরিবর্তনের অনুমোদন আছে।
- একজন ব্যক্তি জন্ম নিবন্ধন বা এনআইডির তথ্য দিয়ে শুধু একবার পাসপোর্টে বয়স বদলাতে পারবেন।
- ভিন্ন ভিন্ন জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে দুই-তিন ধাপে ১০ থেকে ১৫ বছর বয়স বদলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
- বায়োমেট্রিকের সময় অফিসের কর্মচারীর করণিক (টাইপিং) ভুল হলে যাচাই করে সংশোধন বিবেচনা করা যেতে পারে।
তাই এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধনে জন্মতারিখ ঠিক আছে কি না, পাসপোর্টের আবেদনের আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন।
বায়োমেট্রিকের দিনে যা মাথায় রাখবেন
- স্লিপে লেখা সময়ের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে পৌঁছান; সকালে লাইন লম্বা হয়।
- রঙিন জামা পরুন; সাদা পোশাকে সাদা পটভূমির ছবিতে সমস্যা হতে পারে। চশমা খুলে ছবি তুলতে হয়।
- আঙুলে মেহেদি বা কাটা দাগ থাকলে ছাপ নিতে অসুবিধা হয়; সম্ভব হলে আগেই খেয়াল রাখুন।
- শিশুদের সঙ্গে মা-বাবা দুজনের যেকোনো একজনকে উপস্থিত থাকতে হয়; দুজনের এনআইডি সঙ্গে রাখুন।
- অফিসের ভেতরে-বাইরে দালালের প্রস্তাবে সাড়া দেবেন না। সব ফি অনলাইনে বা নির্ধারিত পদ্ধতিতে দিন, রসিদ রাখুন।
পাসপোর্ট কবে হবে, কীভাবে জানবেন
- epassport.gov.bd-র অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস পাতায় যান।
- ডেলিভারি স্লিপে থাকা ১৩ সংখ্যার অ্যাপ্লিকেশন আইডি অথবা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি (OID) আর জন্মতারিখ দিন।
- স্ট্যাটাস “Passport is ready for issuance” দেখালে বা এসএমএস এলে ডেলিভারি স্লিপ ও এনআইডি নিয়ে শেরপুর অফিসে যান।
পাসপোর্ট তৈরি হওয়ার পরও অনেকে দীর্ঘদিন তুলতে যান না। শেরপুর অফিস মাঝে মাঝে “অবিতরণকৃত ই-পাসপোর্টসমূহের তালিকা” প্রকাশ করে; নিজের নাম আছে কি না দেখতে অফিসের ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ড দেখুন। স্ট্যাটাস অনেক দিন না বদলালে ১৬৪৪৫ নম্বরে কল করুন বা অফিসে লিখিত খোঁজ নিন।
সাধারণ ভুল, যেগুলো এড়িয়ে চলবেন
- এনআইডির সঙ্গে নামের বানান, মা-বাবার নাম বা জন্মতারিখ না মেলানো।
- জেলা/থানা ভুল বেছে অন্য জেলার পাসপোর্ট অফিস পড়ে যাওয়া। শেরপুরের বাসিন্দা হলে জেলা শেরপুর দিন।
- পেশার ঘরে “ছাত্র” বা “সরকারি চাকরিজীবী” লিখে প্রমাণপত্র না নেওয়া।
- শিশুর জন্য জন্ম নিবন্ধনের ইংরেজি সংস্করণ না থাকা।
- অনলাইনে ফি না দিয়ে বা ভুল অঙ্ক দিয়ে বায়োমেট্রিকের দিনে যাওয়া।
- ডেলিভারি স্লিপ হারিয়ে ফেলা।
- ফোনে “পুলিশ ভেরিফিকেশন” বা “দ্রুত পাসপোর্ট” এর নামে টাকা চাওয়া কাউকে টাকা পাঠানো।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
শেরপুরের বাসিন্দা কি ময়মনসিংহ বা ঢাকা থেকে পাসপোর্ট করতে পারবেন?
অনলাইন ফরমে সাধারণত বর্তমান ঠিকানার জেলা অনুযায়ী পাসপোর্ট অফিস ঠিক হয়। শেরপুরে থাকলে শেরপুর অফিসই সবচেয়ে সহজ। অন্য জেলায় থাকলে সেই জেলার ঠিকানা ও প্রমাণ দিয়ে সেখানে আবেদন করা যায়।
দালাল ছাড়া নিজে নিজে কি আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ। পুরো আবেদন অনলাইনে নিজেই করা যায়। কম্পিউটার না থাকলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা পৌর ডিজিটাল সেন্টার থেকে সরকার-নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ দিয়ে ফরম পূরণ করিয়ে নিতে পারেন, তবে ফি নিজে দেখে নিশ্চিত হয়ে দিন।
মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন কীভাবে?
নবায়ন বা রি-ইস্যুর জন্যও একই পোর্টালে আবেদন করতে হয়। ফরমে পুরোনো পাসপোর্টের নম্বর দিন এবং বায়োমেট্রিকের দিন পুরোনো পাসপোর্ট সঙ্গে নিন। ফি নতুন পাসপোর্টের সমান।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করব?
প্রথমে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন। তারপর জিডির কপিসহ অনলাইনে রি-ইস্যুর আবেদন করুন এবং ফরমে হারানোর তথ্য দিন।
শিশুর পাসপোর্টে কি মা-বাবাকে যেতে হয়?
হ্যাঁ, শিশুর বায়োমেট্রিকের সময় অভিভাবক উপস্থিত থাকেন এবং মা-বাবার এনআইডি লাগে। শিশুর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (ইংরেজি সংস্করণসহ) অবশ্যই লাগবে।
পুলিশ কি এখনো বাড়িতে আসবে?
এনআইডি বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাই হলে নতুন পাসপোর্টে সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না। তবু কোনো কারণে তদন্ত হলে পুলিশ কর্মকর্তা সরেজমিনে দেখা করবেন; ফোনে টাকা চাইলে সেটি প্রতারণা।
দরকারি লিংক
- ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন (epassport.gov.bd)
- আবেদনের অবস্থা যাচাই
- ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (dip.gov.bd)
- আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, শেরপুর
শেরপুরের অন্যান্য সরকারি দপ্তর আর জরুরি নম্বরের জন্য দেখুন শেরপুরের জরুরি ফোন নম্বর, আর জেলার সার্বিক তথ্যের জন্য শেরপুর জেলা গাইড।
সূত্র
- আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, শেরপুর (তথ্য বাতায়ন): যোগাযোগ ও অবস্থান, কর্মকর্তা তালিকা, নোটিশ বোর্ড (দেখা হয়েছে অক্টোবর ২০২৬)
- সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: পরিপত্র “পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা শিথিলকরণ” (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫), শেরপুর অফিসের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত
- ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর: “সতর্কীকরণ নোটিশ” (পুলিশ তদন্তের নামে প্রতারণা) এবং “একাধিক জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে দুই-তিন ধাপে ই-পাসপোর্টে মোট ১০-১৫ বছর বয়স পরিবর্তন প্রসঙ্গে” (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা/ইউএনবি: অনলাইনে আবেদন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া ই-পাসপোর্ট পাওয়ার উপায় (৪ মার্চ ২০২৫), ফি, কাগজপত্র ও সময়ের তথ্য
- প্রথম আলো: পুলিশ ভেরিফিকেশন বাদ, এনআইডি দিয়ে করা যাবে পাসপোর্ট (ফেব্রুয়ারি ২০২৫)
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। ফি, সময় ও নিয়ম সরকার বদলাতে পারে; আবেদনের আগে epassport.gov.bd বা শেরপুর পাসপোর্ট অফিসে যাচাই করে নিন। কোনো তথ্য ভুল পেলে আমাদের জানান।