মূল কনটেন্টে যান

শেরপুর জেলা: গারো পাহাড়, তুলশীমালা আর ইতিহাসের জনপদ

ভ্রমণ ও পর্যটন · ৭ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুর জেলা: গারো পাহাড়, তুলশীমালা আর ইতিহাসের জনপদ

আমার শেরপুর ১৫ মিনিটে পড়ুন

শেয়ার করুন:

মেঘালয়ের পাহাড়ের কোলঘেঁষা সীমান্তের এই জেলায় একসঙ্গে মেলে শাল-গজারির বন, পাহাড়ি নদী, পাঁচশো বছরের ইতিহাস আর নানা জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি। শেরপুরকে চিনতে যা যা জানা দরকার, সব এক জায়গায়।

প্রচ্ছদের ছবি: মধুটিলা এলাকার সবুজ পাহাড় — Ariful Islam Nishan, CC BY-SA 4.0

ঢাকা থেকে উত্তরে গেলে ময়মনসিংহ বিভাগের একেবারে সীমান্তে শেরপুর। মানচিত্রে ছোট্ট জেলা, কিন্তু ভেতরে ঢুকলে বৈচিত্র্য চোখে পড়ে। দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্রের চর আর সমতল ধানের মাঠ, উত্তরে গারো পাহাড়ের টিলা, শাল-গজারির বন আর সীমান্তের ওপারে মেঘালয়ের নীল পাহাড়। এই জেলায় একই দিনে মোগল আমলের মসজিদ দেখে বিকেলে পাহাড়ি নদীর পাথরে পা ভেজানো যায়। রাতে খাওয়া যায় শতবর্ষী ছানার পায়েস।

জেলা প্রশাসন শেরপুরের ব্র্যান্ডিং করেছে একটি স্লোগানে: “পর্যটনের আনন্দে, তুলশীমালার সুগন্ধে”। এই লেখায় সেই পর্যটন আর সুগন্ধের পেছনের গল্পটাই খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে।

এক নজরে শেরপুর

বিভাগময়মনসিংহ
জেলা হিসেবে যাত্রা২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪
আয়তন১,৩৬৩.৭৬ বর্গকিমি
জনসংখ্যা (জনশুমারি ২০২২)১৫,০১,৮৫৩ জন
উপজেলা · পৌরসভা৫ · ৪
ইউনিয়ন · গ্রাম৫২ · ৬৭৮
সংসদীয় আসন৩টি (শেরপুর-১, ২, ৩)
আন্তর্জাতিক সীমানাপ্রায় ৩০ কিমি (মেঘালয়)

সীমানা: উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণ ও পশ্চিমে জামালপুর জেলা, পূর্বে ময়মনসিংহ জেলা। জেলা শহরের পোস্ট কোড ২১০০। মৌজার সংখ্যা ৪৫৭।

নামের উৎস ও ইতিহাস

দশকাহনিয়া থেকে শেরপুর

আজকের শেরপুর মোগল আমলে পরিচিত ছিল ‘দশকাহনিয়া বাজু’ নামে। পরে এ অঞ্চলে গাজী বংশের জমিদারি প্রতিষ্ঠিত হয়। বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজীর নাম থেকেই এলাকার নাম হয় শেরপুর। সদর উপজেলার তথ্য বাতায়নে আছে, ক্ষমতা হারানোর পর শের আলী গাজী শহরের প্রায় ১০–১২ কিলোমিটার উত্তরে এক খামারবাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই মারা যান। সেই খামারবাড়ি থেকে এলাকার নাম হয়েছে গাজীর খামার। তাঁর কবর আজও ‘গাজীর দরগা’ নামে পরিচিত।

মোগল আমলে শেরপুর পরগনার প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল শহরের কসবা এলাকা। মোগলবাড়ী মসজিদ, কাজীগলি, কাচারীপাড়ার মতো নামে সেই সময়ের স্মৃতি এখনো টিকে আছে। এর আগে সুলতানি আমলেও এ অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১৪৯১ সালে সুলতানি সেনাপতি মজলিস খান হুমায়ুন শ্রীবরদীর কোচ রাজা দলিপ সামন্তের দুর্গ দখল করেন। সুফি সাধক জরিপ শাহের নামে দুর্গটির নাম হয় গড়জরিপা।

জমিদারদের শহর

ব্রিটিশ আমলে শেরপুর শহর ছিল কয়েকটি জমিদার পরিবারের কেন্দ্র। নয়আনী, পৌনে তিন আনী, তিনআনীর মতো নামগুলো এসেছে জমিদারির ভাগ থেকে, অর্থাৎ ষোল আনার মধ্যে কোন পরিবারের অংশ কত। নয়আনী জমিদারদের বাড়ির জায়গাতেই আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও জেলা জজ আদালত। মূল ভবন নব্বইয়ের দশকে ভেঙে নতুন দপ্তর তৈরি হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০১৪ সালে জায়গাটিকে প্রত্নস্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। অন্যদিকে পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি এখনো দাঁড়িয়ে আছে (নিচে বিস্তারিত)।

মুক্তিযুদ্ধের শেরপুর

১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই পাকিস্তানি বাহিনী নালিতাবাড়ীর সোহাগপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে ১৮৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। পুরুষশূন্য গ্রামটি পরে ‘বিধবা পল্লী’ নামে পরিচিত হয়। আজ একে সম্মান জানিয়ে ডাকা হয় ‘বীরকন্যা পল্লী’। ডিসেম্বরে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে শেরপুর মুক্ত হয়। ৭ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর অধিনায়ক জগজিৎ সিং অরোরা হেলিকপ্টারে শহরের পৌর পার্কে (আজকের শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক) নেমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান। প্রতি বছর ৭ ডিসেম্বর শেরপুর মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়।

জেলা হিসেবে যাত্রা

স্বাধীনতার পর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের সময় ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা পায়। শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নকলা নিয়ে জেলাটি গঠিত। পরে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত হলে শেরপুর তার অংশ হয়।

পাহাড়, নদী আর প্রকৃতি

শেরপুরের ভূপ্রকৃতি দুই ভাগে বোঝা সহজ। উত্তরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদীর সীমান্তঘেঁষা অংশে গারো পাহাড়ের পাদদেশ। সেখানে লাল মাটির টিলা, শাল-গজারির বন, রাবার বাগান আর পাহাড়ি ছড়া। দক্ষিণ ও পশ্চিমের সদর আর নকলা মূলত সমতল ও চরাঞ্চল, ধান আর সবজির মাঠ।

জেলার উল্লেখযোগ্য নদী হলো ব্রহ্মপুত্র, ভোগাই, কংশ, সোমেশ্বরী, মহারশি ও মালিঝি। মেঘালয় থেকে নেমে আসা ভোগাই শীতে স্বচ্ছ, নুড়িপাথরে ভরা। বর্ষায় সেই নদীই হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে ফুঁসে ওঠে।

নালিতাবাড়ীর তারাগঞ্জের ঘাট থেকে ভোগাই নদী
নালিতাবাড়ীতে ভোগাই নদী, তারাগঞ্জের একটি ঘাট থেকে তোলা।
ছবি: Anup Sadi · CC BY-SA 4.0 · উৎস
গারো পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে ধানক্ষেত
পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে ধানক্ষেত। মধুটিলা এলাকা থেকে তোলা ছবি।
ছবি: Md Rafiqul Islam Linkon · CC BY-SA 4.0 · উৎস

পাঁচ উপজেলা

আয়তন বাংলা উইকিপিডিয়ার উপজেলা সারণি থেকে আর জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী। পাঁচ উপজেলার জনসংখ্যা যোগ করলে জেলার মোট জনসংখ্যার সঙ্গে মিলে যায়।

উপজেলাআয়তন (বর্গকিমি)জনসংখ্যা (২০২২)ইউনিয়নপৌরসভা
শেরপুর সদর৩৭২.৮৯৫,৬৩,৮৬৫১৪শেরপুর
নালিতাবাড়ী৩২৭.৬১২,৭১,৯৩৩১২নালিতাবাড়ী
শ্রীবরদী২৪৮.২৫২,৭৯,১৪২১০শ্রীবরদী
ঝিনাইগাতী২৪২.০৭১,৭৮,১৪৮৭—
নকলা১৭৩.৮৪২,০৮,৭৬৫৯নকলা

শেরপুর সদর

জেলা শহর · ১৪টি ইউনিয়ন

জমিদার বাড়ি, মাইসাহেবা মসজিদ, গোপীনাথ ও অন্নপূর্ণা মন্দির, শাহ কামালের মাজার আর কসবার মোগল স্মৃতি নিয়ে ইতিহাসের কেন্দ্র। শহর থেকে প্রায় ১২ কিমি দূরে সাতপাকিয়ায় ব্রহ্মপুত্রের ওপর সেতু, আর শহরের ভেতরে অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র।

নালিতাবাড়ী

সীমান্ত উপজেলা · ১২টি ইউনিয়ন

মধুটিলা ইকোপার্ক, পানিহাটা-তারানির পাহাড় আর ভোগাই নদী, বারোমারি মিশন, নাকুগাঁও স্থলবন্দর ও সুতানাল দিঘি। মুক্তিযুদ্ধের সোহাগপুর বীরকন্যা পল্লীও এখানে।

শ্রীবরদী

গারো পাহাড় · ১০টি ইউনিয়ন

টেবিলের মতো সমতল চূড়ার রাজার পাহাড়, বাবেলাকোনার কালচারাল একাডেমী, কর্ণঝোরার রাবার বাগান আর সুলতানি আমলের গড়জরিপা। বাঁশশিল্প ও নকশিকাঁথার জন্যও পরিচিত।

ঝিনাইগাতী

গজনীর উপজেলা · ৭টি ইউনিয়ন

জেলার সবচেয়ে পরিচিত বিনোদন কেন্দ্র গজনী অবকাশ, ১৬১৮-১৯ সালের শিলালিপিওয়ালা ঘাগড়া খান বাড়ি মসজিদ, সন্ধ্যাকুড়ার রাবার বাগান আর রাংটিয়ার কোচ গ্রাম।

নকলা

সমতলের উপজেলা · ৯টি ইউনিয়ন

কৃষিপ্রধান সমতল এলাকা। রুনিগাঁওয়ের প্রাচীন গাজীর দরগাহ, মহাসড়কের পাশের বিনোদন কেন্দ্র মায়াকুঞ্জ আর দরবারচরের শিমুলতলা স্থানীয়দের প্রিয় জায়গা।

দর্শনীয় স্থান

গজনী অবকাশ কেন্দ্র

ঝিনাইগাতীজেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিমি

নব্বইয়ের দশকে জেলা প্রশাসন গারো পাহাড়ের পাদদেশে গজনী অবকাশ কেন্দ্র গড়ে তোলে। এটিই জেলার সবচেয়ে পরিচিত বিনোদন কেন্দ্র। শাল-গজারির বন, টিলা আর লেক ঘিরে আছে ৬৪ ফুট উঁচু সাইট ভিউ টাওয়ার, পদ্মসিঁড়ি, ‘পাতালপুরী’ সুড়ঙ্গ, ঝুলন্ত সেতু, প্যাডেল বোট আর ছোট চিড়িয়াখানা। এখানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনধারা নিয়ে আলাদা জাদুঘরও আছে।

গজনী অবকাশ কেন্দ্রের সাইট ভিউ টাওয়ার
গজনীর সাইট ভিউ টাওয়ার।
ছবি: মোঃ চঞ্চল মাহামুদ ভারুয়া · CC BY-SA 4.0 · উৎস
গজনী অবকাশ কেন্দ্রের লেকে প্যাডেল বোট
গজনীর লেকে প্যাডেল বোট (২০০৭)।
ছবি: MD. Shoriful Islam T. (Panoramio) · CC BY-SA 3.0 · উৎস

নিরাপত্তার কারণে অবকাশ কেন্দ্রের রেস্ট হাউজে রাতে থাকার অনুমতি নেই। সন্ধ্যার আগেই শহরে ফেরার পরিকল্পনা করুন।

মধুটিলা ইকোপার্ক

নালিতাবাড়ীজেলা শহর থেকে প্রায় ২৪ কিমি

ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জে গারো পাহাড়ের প্রায় ৩৮০ একর বনভূমিতে এই পরিবেশ-উদ্যান। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে চারপাশে সবুজ বনের ঢেউ, আর পরিষ্কার দিনে ওপারে মেঘালয়ের পাহাড় চোখে পড়ে। লেকে প্যাডেল বোট, স্টার ব্রিজ, প্রাণীর ভাস্কর্য আর শিশুপার্কও আছে। ভারত সীমান্ত এখান থেকে মাত্র প্রায় এক কিলোমিটার দূরে, আর আশপাশে গারো জনগোষ্ঠীর বসবাস।

মধুটিলা ইকোপার্কের পর্যবেক্ষণ টাওয়ার
মধুটিলার পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।
ছবি: Sharifshabbir · CC BY-SA 4.0 · উৎস
মধুটিলার টাওয়ার থেকে দেখা বনভূমি ও দূরের পাহাড়
টাওয়ার থেকে দেখা বন আর দিগন্তের পাহাড়।
ছবি: Shariful Islam Masum · CC BY-SA 4.0 · উৎস

রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা

শ্রীবরদীশহর থেকে প্রায় ৩৪ কিমি

শ্রীবরদীর সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু টিলাগুলোর একটি রাজার পাহাড়। এর চূড়ায় আছে বিস্তৃত সমতল জায়গা। লোককথা অনুযায়ী প্রাচীনকালে এখানে এক রাজা থাকতেন, সেখান থেকেই এই নাম। পাশের বাবেলাকোনা গ্রামে গারো, হাজং ও কোচ জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের সংস্কৃতি চর্চার জন্য সেখানে জাদুঘর ও লাইব্রেরিসহ বাবেলাকোনা কালচারাল একাডেমী রয়েছে। রাজার পাহাড়ে যাওয়ার পথে পড়ে কর্ণঝোরা বাজার।

শ্রীবরদীর গারো পাহাড়ের সবুজ টিলা ও মাটির পথ
শ্রীবরদীর গারো পাহাড় এলাকার টিলা আর মাটির পথ।
ছবি: Tanvir Rahat · CC BY-SA 4.0 · উৎস

পানিহাটা-তারানি পাহাড় ও ভোগাই নদী

নালিতাবাড়ীউপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিমি

নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী পানিহাটা আর তারানি গ্রামের পাহাড় মিলিয়ে জায়গাটি পরিচিতি পেয়েছে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা ভোগাইয়ের স্বচ্ছ পানি, নুড়িপাথর আর ওপারে ভারতের তুরা পাহাড়ের মেঘ-কুয়াশা এখানকার মূল আকর্ষণ। কাছেই একটি খ্রিস্টান মিশন, ছোট চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিদ্যালয় আছে। পিকনিকের মতো খোলা জায়গাও পাওয়া যায়।

তারানি-পানিহাটার সীমান্ত এলাকায় ভোগাই নদী
তারানি-পানিহাটার সীমান্ত এলাকা ও ভোগাই নদী।
ছবি: George achik · CC BY-SA 4.0 · উৎস
শীতে পানিহাটায় ভোগাই নদীর চর
শীতে পানিহাটায় ভোগাইয়ের বালুচর।
ছবি: George achik · CC BY-SA 4.0 · উৎস

কর্ণঝোরা ও সন্ধ্যাকুড়ার রাবার বাগান

শ্রীবরদীঝিনাইগাতী

শ্রীবরদীর সীমান্তঘেঁষা মেঘঢল গ্রামের কাছে, ভারত থেকে নেমে আসা কর্ণঝোরা নদীর এলাকায় সারি সারি রাবার গাছ। দূরে দেখা যায় টেবিলের মতো চূড়ার রাজার পাহাড়। ঝিনাইগাতীর রাংটিয়া বাজার থেকে প্রায় ৪ কিমি পূর্বে পাহাড়ের ভেতরে আছে সন্ধ্যাকুড়ার রাবার বাগান।

কর্ণঝোরার কাছে রাবার বাগান
কর্ণঝোরার কাছে রাবার বাগান।
ছবি: Redmin · CC BY 4.0 · উৎস

আরও কিছু জায়গা

বারোমারি মিশন (নালিতাবাড়ী): মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি উপত্যকায় ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের তীর্থস্থান। পর্তুগালের ফাতেমা তীর্থের আদলে ১৯৯৭ সালে এখানে ফাতেমা রানীর তীর্থ স্থাপিত হয়। শহর থেকে প্রায় ৩২ কিমি উত্তরে।

নাকুগাঁও স্থলবন্দর (নালিতাবাড়ী): মেঘালয়ের ডালু সীমান্তের মুখোমুখি স্থলবন্দর। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে এখানে শুল্ক বন্দরের কাজ শুরু হয়।

সুতানাল দিঘি (নালিতাবাড়ী): প্রায় ৬০ একর জুড়ে বিস্তৃত প্রাচীন দিঘি, ‘রানি বিরহিণীর দিঘি’ নামেও পরিচিত। এক দিন-রাতে কাটা সুতার সমান লম্বা করে খোঁড়া হয়েছিল, এমন লোককাহিনি প্রচলিত আছে। এখন টিকিট কেটে শৌখিন মাছ ধরা যায়।

সীমান্ত সড়ক: গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষে উঁচু-নিচু টিলা পেরিয়ে যাওয়া দুই লেনের সড়ক। শেরপুর অংশে বন আর পাহাড়ের দৃশ্যের জন্য ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয়।

অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র (সদর): শহরের ভেতরেই সবুজ মাঠ, গাছের সারি আর পুকুরঘাটওয়ালা পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র।

প্রাচীন স্থাপনা: মসজিদ, মন্দির, জমিদার বাড়ি

পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি ও রংমহল

জমিদার সত্যেন্দ্র মোহন চৌধুরী ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরীর বাড়ি। গ্রিক রীতির কারুকাজ করা স্তম্ভ, চুন-সুড়কির পলেস্তারা আর লোহার রেলিং একে অন্য জমিদার বাড়ি থেকে আলাদা করেছে। বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে লতাপাতা আর ফুলের নকশায় সাজানো রংমহলে একসময় নাচ-গান হতো। সামনে শান বাঁধানো ঘাটের পুকুর।

শেরপুর শহরের পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি
গ্রিক রীতির স্তম্ভওয়ালা পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি।
ছবি: Topu Saha · CC BY-SA 2.0 · উৎস

ঘাগড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ

ঝিনাইগাতীর হাতিবান্ধা ইউনিয়নে মোগল আমলের এক গম্বুজের মসজিদ। দরজার ওপরের আরবি শিলালিপিতে নির্মাণকাল লেখা ১০২৮ হিজরি (১৬১৮-১৯ খ্রিষ্টাব্দ)। টালির মতো পাতলা চারকোনা ইট, ঝিনুকচূর্ণ-সুড়কির পলেস্তারা আর মিহরাবের ফুলেল নকশা এর বৈশিষ্ট্য। ১৯৯৯ সাল থেকে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে আছে।

ঝিনাইগাতীর এক গম্বুজবিশিষ্ট ঘাগড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ
প্রায় চারশো বছরের পুরোনো ঘাগড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ।
ছবি: Ayman Nakib Badhan · CC BY-SA 4.0 · উৎস

মাইসাহেবা জামে মসজিদ

শেরপুর সরকারি কলেজের পাশে প্রায় আড়াইশো বছরের পুরোনো এই মসজিদ জেলার সবচেয়ে বড় ও পরিচিত মসজিদ। পরে আধুনিক নকশায় তিনতলা করে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। দূর থেকে চোখে পড়ে এর দুটি সুউচ্চ মিনার। তিনআনী জমিদারের আমলের এক নারী উপাসককে ঘিরে মসজিদের নামকরণের লোককাহিনি প্রচলিত আছে। সামনের খোলা জায়গায় ঈদের বড় জামাত হয়।

শেরপুর শহরের মাইসাহেবা জামে মসজিদের মিনার ও প্রবেশ তোরণ
মাইসাহেবা জামে মসজিদের মিনার ও তোরণ।
ছবি: Tanjil Arafat · CC BY-SA 4.0 · উৎস

শ্রী শ্রী গোপীনাথ ও অন্নপূর্ণা মন্দির

শহরের নবীনগরে পাঁচ কক্ষের এই মন্দির শেরপুরের স্থাপত্য ঐতিহ্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। পদ্মস্তম্ভ, ফুল-লতাপাতার নকশা করা কার্নিশ আর ডরিক-গ্রিক রীতির মিশেল এতে চোখে পড়ে। জেলা তথ্য বাতায়নের তথ্যমতে এটি নির্মিত হয় ১৭৮৩ সালে। কাছেই আছে লোকনাথ মন্দির ও রঘুনাথ জিউর মন্দির।

শ্রী শ্রী গোপীনাথ ও অন্নপূর্ণা মন্দির ও সামনের পুকুর
পুকুরপাড় থেকে গোপীনাথ ও অন্নপূর্ণা মন্দির।
ছবি: Topumym · CC BY-SA 4.0 · উৎস

গড়জরিপা: দুর্গ, বারদুয়ারী মসজিদ ও জরিপ শাহের মাজার

শ্রীবরদী সদর থেকে প্রায় ১০ কিমি পূর্বে গড়জরিপা। মুসলিম শাসনের শুরুতে এটিই ছিল এ অঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র। বারোটি দরজা থাকায় মসজিদটির নাম বারদুয়ারী। জনশ্রুতি আছে, মূল মসজিদটি মাটির নিচে চাপা পড়েছিল। আশির দশকে খননে ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার পর পুরোনো ভিতের ওপরই বর্তমান মসজিদটি নতুন করে তৈরি হয়। কাছেই জরিপ শাহের মাজার আর কালিদহ সাগর। লোককাহিনি বলে, এই কালিদহেই চাঁদ সওদাগরের ডিঙা ডুবেছিল।

শাহ কামালের মাজার ও শের আলী গাজীর দরগা

বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিমে কামারের চর রোডের পাশে দরবেশ শাহ কামালের মাজার। সদর উপজেলা বাতায়নের তথ্যমতে তিনি সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে, ১৫০৩ সালে, মুলতান থেকে এ অঞ্চলে আসেন। আর গাজীর খামারে আছে শের আলী গাজীর দরগা, যাঁর নামে জেলার নাম।

মানুষ ও সংস্কৃতি

শেরপুরের পাঁচ উপজেলাতেই কমবেশি গারো, কোচ, হাজং, হদি, বানাই ও বর্মণ জনগোষ্ঠীর বসবাস। প্রত্যেকের নিজস্ব ভাষা, পোশাক আর উৎসব আছে। গারো পাহাড়ঘেঁষা গ্রামগুলোতে খ্রিস্টান মিশন, পাহাড়ি জুমচাষ আর মাটির ঘরের দেয়ালচিত্র মিলে আলাদা এক জীবনধারা চোখে পড়ে। শ্রীবরদীর বাবেলাকোনা কালচারাল একাডেমী আর গজনীর নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘরে এই সংস্কৃতির নিদর্শন সংরক্ষিত আছে।

ঝিনাইগাতীর রাংটিয়ার কোচ গ্রামে দেয়ালচিত্রের সামনে এক শিশু
ঝিনাইগাতীর রাংটিয়ার কোচ গ্রামে ঐতিহ্যবাহী দেয়ালচিত্রের সামনে এক শিশু।
ছবি: Nayeem01771031233 · CC BY-SA 4.0 · উৎস

সমতলের মানুষের জীবনও কৃষিকে ঘিরে। ধান জেলার প্রধান ফসল। শ্রীবরদীর বাঁশশিল্প স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য জায়গায়ও যায়। গ্রামের অনেক নারী নকশিকাঁথা তৈরি করে সংসারে আয় যোগ করেন।

পাহাড়ি গ্রামে কারো ছবি তুলতে চাইলে আগে অনুমতি নিন। ঘরবাড়ি, উপাসনালয় আর উৎসবের প্রতি সম্মান দেখান। এটাই ভালো ভ্রমণকারীর পরিচয়।

বন্য হাতি ও মানুষ

গারো পাহাড়ের বনে বুনো এশীয় হাতির দল চলাচল করে, আর সীমান্তের দুই পাশের বন মিলিয়েই তাদের চলার পথ। বন কমে আসায় হাতির দল প্রায়ই লোকালয় আর ফসলের মাঠে নেমে আসে। গ্রামবাসীরা তখন মশাল, আগুন আর ঢোল বাজিয়ে হাতি তাড়ান। শ্রীবরদীর নয়াবাড়ির টিলাকে জেলা প্রশাসক বন্য হাতির অভয়ারণ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আর রাণীশিমুল ইউনিয়নের পাহাড়েও হাতির দল চলাচলের কথা বলা আছে।

শেরপুরে বনের ভেতর বন্য হাতির দল, পাশে গ্রামবাসীর মশালের আগুন
শেরপুরের বনে বুনো হাতির দল, আর তাড়াতে গ্রামবাসীর জ্বালানো মশাল (২০২৫)।
ছবি: Bipul Ahmed official · CC BY-SA 4.0 · উৎস
ভ্রমণকারীদের জন্য: সন্ধ্যার পর পাহাড়ি বনপথে হাঁটবেন না। হাতির দলের কাছে যাবেন না, ছবি তুলতে আলো জ্বালবেন না বা শব্দ করবেন না। স্থানীয় মানুষ আর বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলুন।

তুলশীমালা চাল আর ছানার পায়েস

তুলশীমালা: শেরপুরের সুগন্ধ

তুলশীমালা শেরপুরের সুগন্ধি, চিকন দানার আমন মৌসুমের ধান। এর চাল পোলাও, বিরিয়ানি, পায়েস, খিচুড়ি আর পিঠায় খুব জনপ্রিয়। জেলার পাঁচ উপজেলাতেই এর চাষ হয়। প্রথম আলোর ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে তুলশীমালার আবাদ হয়। জেলা প্রশাসনের আবেদনের পর ২০২৩ সালের জুনে তুলশীমালা চাল দেশের ১৪তম ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

ছানার পায়েস: শতবর্ষী মিষ্টি

ব্রিটিশ আমলে শেরপুর শহরের ঘোষপট্টি এলাকায় প্রথম তৈরি হয় ছানার পায়েস। ঘন দুধ জ্বাল দিয়ে ক্ষীর বানানো হয়, তাতে ময়দা মেশানো ছানার ছোট ছোট গোলা চিনির সিরায় ভিজিয়ে রান্না করা হয়। এক কেজি পায়েস বানাতে প্রায় দুই কেজি দুধ লাগে। একসময় হাতে গোনা দু-একটি দোকানে পাওয়া যেত, এখন জেলা সদরে অন্তত ২০টি দোকানে তৈরি ও বিক্রি হয়। ৫ ডিসেম্বর ২০২৪ শেরপুরের ছানার পায়েস জিআই সনদ পেয়েছে।

শেরপুর থেকে ফেরার সময় ব্যাগে এক প্যাকেট তুলশীমালা চাল আর এক হাঁড়ি ছানার পায়েস রাখা প্রায় নিয়মের মতো। পায়েস দুধের তৈরি, তাই লম্বা যাত্রায় ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা রাখুন।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে শেরপুর

ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে শেরপুর শহরে সরাসরি বাস চলে। নালিতাবাড়ী বা মধুটিলায় যেতে চাইলে মহাখালী থেকে সরাসরি নালিতাবাড়ীর গেটলক বাসও পাওয়া যায়। সড়কপথে সময় রাস্তার অবস্থা আর যানজটের ওপর নির্ভর করে, সাধারণত ৪–৫ ঘণ্টা ধরে রাখুন। ভাড়া সময়ে সময়ে বদলায়, তাই রওনা দেওয়ার আগে কাউন্টারে জেনে নিন।

শেরপুর শহর থেকে দর্শনীয় স্থানে

গন্তব্যশহর থেকে দূরত্বযেভাবে যাবেন
গজনী অবকাশ কেন্দ্রপ্রায় ৩০ কিমিলোকাল বাস, সিএনজি, টেম্পো বা মাইক্রোবাস
মধুটিলা ইকোপার্কপ্রায় ২৪ কিমিবাসে নন্নী বাজার, তারপর রিকশা/সিএনজি/মোটরসাইকেল
রাজার পাহাড়প্রায় ৩৪ কিমিবাস/টেম্পোতে কর্ণঝোরা বাজার, সেখান থেকে স্থানীয় বাহন
পানিহাটা-তারানিনালিতাবাড়ী থেকে প্রায় ১৯ কিমিনালিতাবাড়ী থেকে রিকশা, সিএনজি বা ভাড়ার মোটরসাইকেল
বারোমারি মিশনপ্রায় ৩২ কিমিনালিতাবাড়ী হয়ে নাকুগাঁওয়ের দিকে
গড়জরিপাশ্রীবরদী থেকে প্রায় ১০ কিমিশ্রীবরদী থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা রিজার্ভ

একদিনে গজনী আর মধুটিলা দুটোই ঘুরে ফেলা যায়। দুটো কাছাকাছি, সীমান্ত সড়ক ধরে যাওয়া-আসায় পথের দৃশ্যও উপভোগ করা যায়। থাকার জন্য শেরপুর শহরে আবাসিক হোটেল আছে।

কখন যাবেন ও কী মনে রাখবেন

সেরা সময়: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। শীতে পাহাড়ি পথ শুকনো থাকে, নদীর পানি স্বচ্ছ হয় আর ঘোরাঘুরিতে কষ্ট কম। বর্ষায় পাহাড় সবচেয়ে সবুজ, কিন্তু পথ পিচ্ছিল থাকে। পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ বন্যাও হতে পারে, যেমন হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে।

  • সীমান্ত এলাকা: মধুটিলা, পানিহাটা, নাকুগাঁওয়ের মতো জায়গা সীমান্তের খুব কাছে। সীমান্ত পিলার বা কাঁটাতারের দিকে যাবেন না, বিজিবির নির্দেশনা মেনে চলুন। সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র রাখুন।
  • সন্ধ্যার আগে ফেরা: পাহাড়ি এলাকায় সন্ধ্যার পর যানবাহন কমে যায়, আর হাতির ঝুঁকিও বাড়ে।
  • নদীতে সাবধান: ভোগাই বা পাহাড়ি ছড়ায় বর্ষায় স্রোত হঠাৎ বেড়ে যায়। সাঁতার না জানলে পানিতে নামবেন না।
  • পরিবেশ: পলিথিন বা প্লাস্টিক বনে ফেলবেন না। ময়লা নিজের ব্যাগে ফেরত আনুন।
  • স্থানীয় সংস্কৃতি: আদিবাসী গ্রামে ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।

জরুরি নম্বর

জাতীয় জরুরি সেবা (পুলিশ, ফায়ার, অ্যাম্বুলেন্স)৯৯৯
সরকারি তথ্য ও সেবা৩৩৩
ফায়ার সার্ভিস১০২
স্বাস্থ্য বাতায়ন (ফোনে ডাক্তার)১৬২৬৩
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ১০৯
দুর্যোগের আগাম বার্তা১০৯০

জেলার হাসপাতাল, থানা, অ্যাম্বুলেন্স, রক্তদাতা আর ইউনিয়ন পরিষদের নম্বর এক জায়গায় পেতে আমার শেরপুর ওয়েবসাইট বা অ্যাপ দেখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

শেরপুর জেলা কবে গঠিত হয়?

১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর জেলার মর্যাদা পায়। এটি এখন ময়মনসিংহ বিভাগের অংশ।

শেরপুরের নাম শেরপুর কেন?

মোগল আমলে এলাকার নাম ছিল দশকাহনিয়া বাজু। গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজীর নাম থেকে পরে নাম হয় শেরপুর।

শেরপুরে কয়টি উপজেলা?

পাঁচটি: শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নকলা। এর মধ্যে ঝিনাইগাতী ছাড়া বাকি চারটিতে পৌরসভা আছে।

শেরপুরের সবচেয়ে বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র কোনটি?

ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ কেন্দ্র আর নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক সবচেয়ে পরিচিত। এরপরই আছে শ্রীবরদীর রাজার পাহাড় আর পানিহাটা-তারানি।

শেরপুরের বিখ্যাত খাবার কী?

তুলশীমালা চাল (২০২৩ সালে জিআই) আর ছানার পায়েস (২০২৪ সালে জিআই)।

গজনীতে কি রাতে থাকা যায়?

না। নিরাপত্তার কারণে অবকাশ কেন্দ্রের রেস্ট হাউজে রাত্রিযাপনের অনুমতি নেই। শেরপুর শহরের হোটেলে থাকতে হবে।

ছবির কৃতজ্ঞতা

এই লেখার সব ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া, আলোকচিত্রীরা মুক্ত লাইসেন্সে প্রকাশ করেছেন। ওয়েবে দেখানোর জন্য ছবিগুলো ছোট করা হয়েছে, এ ছাড়া কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

  1. প্রচ্ছদ, মধুটিলা এলাকার সবুজ পাহাড়: Ariful Islam Nishan, CC BY-SA 4.0 — উইকিমিডিয়া কমন্স
  2. ভোগাই নদী, নালিতাবাড়ী: Anup Sadi, CC BY-SA 4.0
  3. পাহাড়ের ঢালে ধানক্ষেত: Md Rafiqul Islam Linkon, CC BY-SA 4.0
  4. গজনীর সাইট ভিউ টাওয়ার: মোঃ চঞ্চল মাহামুদ ভারুয়া, CC BY-SA 4.0
  5. গজনীর লেক: MD. Shoriful Islam T. (Panoramio), CC BY-SA 3.0
  6. মধুটিলার পর্যবেক্ষণ টাওয়ার: Sharifshabbir, CC BY-SA 4.0
  7. মধুটিলার টাওয়ার থেকে দৃশ্য: Shariful Islam Masum, CC BY-SA 4.0
  8. শ্রীবরদীর পাহাড়ি পথ: Tanvir Rahat, CC BY-SA 4.0
  9. তারানি-পানিহাটার সীমান্ত এলাকা: George achik, CC BY-SA 4.0
  10. পানিহাটায় ভোগাই নদী: George achik, CC BY-SA 4.0
  11. কর্ণঝোরার রাবার বাগান: Redmin, CC BY 4.0
  12. পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি: Topu Saha, CC BY-SA 2.0
  13. ঘাগড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ: Ayman Nakib Badhan, CC BY-SA 4.0
  14. মাইসাহেবা জামে মসজিদ: Tanjil Arafat, CC BY-SA 4.0
  15. গোপীনাথ ও অন্নপূর্ণা মন্দির: Topumym, CC BY-SA 4.0
  16. রাংটিয়ার কোচ গ্রাম: Nayeem01771031233, CC BY-SA 4.0
  17. বন্য হাতি ও মশাল: Bipul Ahmed official, CC BY-SA 4.0

প্রতিটি ছবির ক্যাপশনে মূল ফাইলের লিংক দেওয়া আছে। লাইসেন্স: CC BY-SA 4.0, CC BY-SA 3.0, CC BY-SA 2.0, CC BY 4.0।

তথ্যসূত্র

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

আরও পড়ুন

সব দেখুন
ভ্রমণ ও পর্যটন

শেরপুর ভ্রমণ পরিকল্পনা: ১–২ দিনে গজনী, মধুটিলা, পানিহাটা ও রাজার পাহাড়, খরচসহ

ঢাকা থেকে এক বা দুই দিনে শেরপুরের গজনী, মধুটিলা, পানিহাটা-তারানি আর রাজার পাহাড় ঘোরার রুট, সময়সূচি, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া আর জনপ্রতি খরচের হিসাব।

· ৬ মিনিটে পড়ুন

ভ্রমণ ও পর্যটন

শেরপুরের আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউজ ২০২৬: ভাড়া, ঠিকানা ও ফোন নম্বর

শেরপুর শহর, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও নকলার আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউজ, সার্কিট হাউজ ও ডাকবাংলোর ঠিকানা, ফোন নম্বর, ভাড়া আর বুকিংয়ের নিয়ম।

· ৭ মিনিটে পড়ুন

ভ্রমণ ও পর্যটন

মধুটিলা ইকোপার্ক ভ্রমণ গাইড ২০২৬: যাওয়ার উপায়, টিকিট, ওয়াচ টাওয়ার ও খরচ

নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্কে যাওয়ার উপায়, প্রবেশ ফি, ওয়াচ টাওয়ার-লেকসহ ভেতরের সব আকর্ষণ, রেস্ট হাউজ, আশপাশের দর্শনীয় স্থান আর ভ্রমণ টিপস।

· ৭ মিনিটে পড়ুন

শেরপুর নিয়ে আপনার গল্প আছে?

ভ্রমণ, ইতিহাস, খাবার বা প্রিয় মানুষ — লিখে ফেলুন, যাচাইয়ের পর প্রকাশ করা হবে।

লেখা শুরু করুন