মূল কনটেন্টে যান

শেরপুরের ইতিহাস: দশকাহনিয়া থেকে শেরপুর, জমিদারবাড়ি, কৃষক বিদ্রোহ ও ১৯৭১

ইতিহাস ও ঐতিহ্য · ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরের ইতিহাস: দশকাহনিয়া থেকে শেরপুর, জমিদারবাড়ি, কৃষক বিদ্রোহ ও ১৯৭১

আমার শেরপুর ১৪ মিনিটে পড়ুন

শেয়ার করুন:

কামরূপ রাজ্যের সীমান্ত, কোচ রাজার দুর্গ, সুলতানি সেনাপতির অভিযান, খেয়াঘাটের দশ কাহন কড়ি, গাজী বংশের জমিদারি, ষোল আনা ভাগ করা জমিদারবাড়ি, পাগলপন্থী আর টঙ্ক আন্দোলনের কৃষক বিদ্রোহ, একাত্তরের গণহত্যা আর ৭ ডিসেম্বরের মুক্তি: পাঁচশো বছরের বেশি সময় ধরে কীভাবে গড়ে উঠেছে আজকের শেরপুর, সূত্র ধরে ধরে তার পূর্ণ ইতিহাস।

প্রচ্ছদের ছবি: শেরপুর শহরের পৌনে তিন আনী জমিদারবাড়ি। ছবি: Topu Saha · CC BY-SA 2.0 · উৎস

জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি আছে শেরপুর জেলা গাইডে; এই লেখায় শুধু ইতিহাস, আরও গভীরে। পুরোনো ইতিহাসের অনেক ঘটনা লিখিত দলিলের চেয়ে জনশ্রুতিতে বেশি টিকে আছে, তাই কোনটি নথিভুক্ত তথ্য আর কোনটি লোককাহিনি, তা আলাদা করে বলা হয়েছে। সূত্রে সূত্রে তারিখ বা সংখ্যা আলাদা হলে দুটিই দেওয়া হয়েছে।

এক নজরে সময়রেখা

সময়ঘটনা
প্রাচীনকালকামরূপ রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত; কোচ রাজা দলিপ সামন্তের রাজধানী গড় দলিপা
১৪৯১সুলতানি সেনাপতি মজলিস খান হুমায়ুনের গড় দলিপা দখল; নাম হয় গড়জরিপা
১৫০৩দরবেশ শাহ কামালের আগমন (সদর উপজেলা তথ্য বাতায়ন)
আকবরের আমলএলাকার নাম “দশকাহনিয়া বাজু”
সতেরো শতকের শুরুভাওয়ালের গাজীরা ঈসা খাঁর উত্তরসূরিদের কাছ থেকে দশকাহনিয়া পরগনা দখল করেন
১৬১৮–১৯ঘাগড়া খান বাড়ি মসজিদ নির্মাণ (শিলালিপি অনুযায়ী)
নবাবি আমলশের আলী গাজীর শাসন; তাঁর নামে শেরপুর
১৭৮৭ময়মনসিংহ জেলা গঠন; শেরপুর এর অংশ
১৮০৭শেরপুরের কালীগঞ্জে জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় ও সেনানিবাস
১৮১৩–১৮৩৩করম শাহ ও টিপু শাহের পাগলপন্থী আন্দোলন
১৮৪৫জামালপুর মহকুমা গঠন; শেরপুর থানা এর অধীনে
১৮৬৯শেরপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠা
১৮৮৭ভিক্টোরিয়া একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত
১৮৯৭বড় ভূমিকম্প; ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদল
১৯০৬, ১৯১৪, ১৯১৭কামারের চরে কৃষক-প্রজা সম্মেলন
১৯৪৬–১৯৫০টঙ্ক আন্দোলন (নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী)
১৯৭১মুক্তিযুদ্ধ; ১১ নম্বর সেক্টর; ৭ ডিসেম্বর শেরপুর মুক্ত
৮ জানুয়ারি ১৯৭৯শেরপুর মহকুমা (বাংলা উইকিপিডিয়ায় ১৯৭৮)
২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪শেরপুর জেলা
২০১৫নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগের অংশ

প্রাচীনকাল: কামরূপের সীমান্ত আর গড় দলিপা

জেলা তথ্য বাতায়নের পটভূমি পাতা জানায়, প্রাচীন কামরূপ রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের এই অঞ্চলের আদি নাম জানা যায় না। শেরপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্রের এই অংশকে তখন বলা হতো “লৌহিত্য সাগর”। পনেরো শতকে এখানে শাসন করতেন কোচ রাজা দলিপ সামন্ত; তাঁর রাজধানী ও দুর্গের নাম ছিল গড় দলিপা।

ইংরেজি উইকিপিডিয়ার মজলিস খান হুমায়ুন নিবন্ধে বলা হয়েছে, দুর্গ-নগরটি প্রায় ১,১০০ একর জুড়ে ছিল, ঘিরে ছিল সাতটি মাটির প্রাচীর আর ছয়টি পরিখা, আর চার দিকে চারটি ফটক: কুমুদুয়ারী, পানিদুয়ারী, শ্যামদুয়ারী ও খিড়কিদুয়ারী। এই বিবরণের মূল উৎস স্থানীয় ইতিহাসগ্রন্থ, তাই মাপজোকগুলো আনুমানিক হিসেবে নেওয়াই ভালো।

১৪৯১: গড় দলিপা থেকে গড়জরিপা

১৪৯১ সালে বাংলার সুলতান সাইফুদ্দিন ফিরোজ শাহের সেনাপতি মজলিস খান হুমায়ুন ব্রহ্মপুত্র পার হয়ে গড় দলিপা দখল করেন; রাজা দলিপ সামন্ত পরাজিত হন। এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে মুসলিম শাসনের সূচনা হয়, আর গড়জরিপাই হয়ে ওঠে প্রশাসনিক কেন্দ্র।

নতুন নাম “গড়জরিপা” এসেছে সুফি সাধক জরিপ শাহের নাম থেকে। জনশ্রুতি আছে, নতুন বসতির জন্য জায়গা ছাড়ার শর্ত হিসেবে তিনি চেয়েছিলেন জায়গাটির নাম যেন তাঁর নামে হয়। কালিদহ সাগরের পূর্ব পাড়ে তাঁর মাজার আজও আছে। জেলা প্রশাসকের লেখা ও বাংলা উইকিপিডিয়ায় দুর্গের কাল ধরা হয়েছে ১৪৮৬–৯১।

গড়জরিপার বারদুয়ারী মসজিদ, জরিপ শাহের মাজার আর কালিদহ সাগর আজ কেমন আছে, কীভাবে যাবেন, তা আছে শেরপুরের ঐতিহাসিক স্থান লেখায়।

দশকাহনিয়া বাজু: দশ কাহন কড়ির খেয়াঘাট

মোগল সম্রাট আকবরের আমলে এলাকাটি “দশকাহনিয়া বাজু” নামে পরিচিত ছিল। নামের ব্যাখ্যা জেলা তথ্য বাতায়ন ও উইকিপিডিয়া দুই জায়গাতেই প্রায় একই: ব্রহ্মপুত্র পারাপারের খেয়াঘাটের ইজারাদারকে নদীতীরের মানুষ বছরে দশ কাহন কড়ি কর দিত। তখন কড়িই ছিল মুদ্রা, আর কাহন ছিল কড়ি গোনার একক।

জেলা তথ্য বাতায়নের বিবরণে আছে, বারো ভূঁইয়ার অন্যতম ঈসা খাঁ এ অঞ্চলে দুটি দুর্গ গড়েছিলেন। জেলা প্রশাসনের পটভূমি পাতা অনুযায়ী সতেরো শতকের শুরুতে ভাওয়ালের গাজীরা ঈসা খাঁর উত্তরসূরিদের কাছ থেকে দশকাহনিয়া পরগনা দখল করেন। মোগল আমলে শেরপুর পরগনার প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল শহরের কসবা এলাকা; মোগলবাড়ী, কাজীগলি, কাচারীপাড়া, ধোপাঘাটের মতো নামে সেই সময়ের স্মৃতি টিকে আছে। জেলা বাতায়নে শাহজাদা শাহ সুজা কসবায় আঞ্চলিক প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন বলে যে দাবি আছে, তার স্বাধীন ঐতিহাসিক সমর্থন পাওয়া যায়নি।

ঝিনাইগাতীর ঘাগড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ
মোগল আমলের ঘাগড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ, ঝিনাইগাতী। শিলালিপিতে নির্মাণকাল ১০২৮ হিজরি (১৬১৮–১৯ সাল)।
ছবি: Ayman Nakib Badhan · CC BY-SA 4.0 · উৎস

এই সময়ের সবচেয়ে বড় টিকে থাকা সাক্ষী ঝিনাইগাতীর ঘাগড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ। দরজার ওপরের আরবি শিলালিপিতে নির্মাণকাল ১০২৮ হিজরি, অর্থাৎ ১৬১৮–১৯ খ্রিষ্টাব্দ। লোককাহিনি বলে, কোনো এক রাজ্যের দুই সেনাপতি সহোদর পালানো খাঁ ও জব্বার খাঁ যুদ্ধে হেরে বনে আশ্রয় নিয়ে মসজিদটি গড়েন; তবে এটি জনশ্রুতিই।

শের আলী গাজী: যাঁর নামে শেরপুর

নবাবি আমলে গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজী দশকাহনিয়া অঞ্চল দখল করে স্বাধীনভাবে শাসন করেন। তাঁর নামেই এলাকার নাম হয় শেরপুর, যদিও রাজধানী তখনও গড়জরিপায় ছিল বলে জেলা বাতায়ন জানায়।

তাঁর শেষ জীবন নিয়ে সদর উপজেলা তথ্য বাতায়নের বিবরণ: ক্ষমতা হারিয়ে তিনি অজ্ঞাতবাসে যান, শহরের প্রায় ১০–১২ কিলোমিটার উত্তরে এক খামারবাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই অসুস্থ হয়ে মারা যান। সেই খামারবাড়ি থেকে এলাকার নাম গাজীর খামার, আর তাঁর কবর “গাজীর দরগা” নামে পরিচিত, গাজীর খামার ইউনিয়নের গিদ্দাপাড়া ফকিরবাড়িতে। শের আলী গাজীর শাসনকালের সুনির্দিষ্ট সাল কোনো সরকারি সূত্রে পাওয়া যায় না, আর উইকিপিডিয়ার একটি নিবন্ধে তাঁকে নিয়ে দেওয়া সাল অন্য তথ্যের সঙ্গে মেলে না; তাই এখানে কোনো সাল দেওয়া হলো না।

জমিদারদের শহর: নয়আনী, আড়াই আনী, তিনআনী, পৌনে তিন আনী

ব্রিটিশ আমলে শেরপুর শহর ছিল কয়েকটি জমিদার পরিবারের কেন্দ্র। “আনী” শব্দটি এসেছে ষোল আনা হিসাব থেকে: পুরো জমিদারি ষোল আনা ধরলে কোন শরিকের ভাগ কত, সেই অনুযায়ী পরিবারগুলোর নাম। নয়আনী, আড়াই আনী, তিনআনী, পৌনে তিন আনী, এভাবে। জমিদারি কবে ও কীভাবে এই ভাগে ভাগ হয়েছিল, তার নথিভিত্তিক বিবরণ জেলা বাতায়নে নেই।

শরিকসূত্রে উল্লিখিত নামকী রেখে গেছেন
নয়আনীচারুচন্দ্র চৌধুরীজমিদারবাড়ির জায়গায় আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়; ভিক্টোরিয়া একাডেমি (১৮৮৭); চারু প্রেস
আড়াই আনী—জি. কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অংশ; বাড়িটি এখন সরকারি মহিলা কলেজ
তিনআনীরাধাবল্লভ চৌধুরীশহরের তিনআনী এলাকা; মাইসাহেবা মসজিদের নামকরণের লোককাহিনি এই আমলের
পৌনে তিন আনীসত্যেন্দ্র মোহন চৌধুরী, জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরীগ্রিক রীতির স্তম্ভওয়ালা জমিদারবাড়ি ও রংমহল; গোপীনাথ-অন্নপূর্ণা মন্দির

জেলা বাতায়নের পটভূমি পাতায় একটি চমকপ্রদ তথ্য আছে: নয়আনী জমিদার চারুচন্দ্র চৌধুরীর মালিকানাধীন চারু প্রেসে মীর মশাররফ হোসেনের “বিষাদ-সিন্ধু” প্রথম ছাপা হয়েছিল। এ দাবির স্বাধীন সমর্থন আমরা খুঁজে পাইনি, তাই এটিকে জেলা বাতায়নের ভাষ্য হিসেবেই উল্লেখ করা হলো।

নয়আনী জমিদারবাড়ি আঠারো শতকের শেষ বা উনিশ শতকের শুরুতে তৈরি বলে বাংলা উইকিপিডিয়া জানায়। ১৯৪৭-এর পর পরিত্যক্ত বাড়িটি কলেজের ছাত্রাবাস, পরে মহকুমা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নব্বইয়ের দশকে মূল ভবন ভেঙে নতুন দপ্তর তৈরি হয়, রংমহলটিও ভাঙা হয় ২০০৩ সালে; তবু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০১৪ সালে জায়গাটিকে প্রত্নস্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। বাংলাপিডিয়া এখানকার উনিশ শতকের নাটমন্দিরকে চীনা রীতির কারুকাজ করা কাঠের স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় শহরে মন্দিরও গড়ে ওঠে। বাংলাপিডিয়া রঘুনাথ জিউর মন্দিরের কাল দিয়েছে ১৭৭১ সাল। জেলা বাতায়ন অনুযায়ী গোপীনাথ-অন্নপূর্ণা মন্দির ১৭৮৩ সালে পৌনে তিন আনীর জমিদারদের উদ্যোগে তৈরি; তবে একই পাতায় জমিদারবাড়িকে মন্দিরের “অনেক আগের” বলা হয়েছে, যা বিংশ শতকের জমিদার সত্যেন্দ্র মোহন ও জ্ঞানেন্দ্র মোহনের সময়ের সঙ্গে মেলে না। তাই ১৭৮৩ সালটি যাচাইসাপেক্ষ।

ব্রিটিশ শাসন: ম্যাজিস্ট্রেট, থানা আর পৌরসভা

জেলা প্রশাসনের পটভূমি পাতা থেকে ব্রিটিশ আমলের প্রশাসনিক ধাপগুলো এমন:

  • ১ মে ১৭৮৭: ময়মনসিংহ জেলা গঠিত হয়, শেরপুর তার অংশ।
  • ১৮০৭: পাহাড়ি অঞ্চলের অস্থিরতা সামলাতে শেরপুরের কালীগঞ্জে জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় বসে; সেখানে একটি সেনানিবাসও ছিল। কিছুদিন পর কার্যালয় তুলে নেওয়া হয়, ১৮২৮ সালে আবার বসে, ১৮৩২ সালে আবার তুলে নেওয়া হয়।
  • উনিশ শতকের শুরু: শেরপুরে থানা ও ফৌজদারি আদালত। প্রথম থানা ছিল মৃগী নদীর পূর্ব পাড়ের মীরগঞ্জে, পরে শহরের দক্ষিণ-পূর্বে সরানো হয়; “থানাঘাট” নামে সেই স্মৃতি রয়ে গেছে।
  • ১৮৪৫: শেরপুর, হাজীপুর ও পিংনা থানা নিয়ে জামালপুর মহকুমা গঠিত হয়। এরপর প্রায় সোয়া শতাব্দী শেরপুর জামালপুরের অধীনে ছিল।
  • ১৮৬৯: শেরপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় (বাংলাপিডিয়া ও জেলা বাতায়ন)।

সদর উপজেলা তথ্য বাতায়নের ২০১৩ সালের ঐতিহ্য পাতায় শহরের কোদাল ঝাড়া টিলা নিয়ে একটি জনশ্রুতিও আছে: ১৮০৭ সালে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও সেনানিবাস বসানোর সময় পুকুর কাটার মাটিতে টিলাটি তৈরি হয়েছিল।

শিক্ষার প্রসার

ব্রিটিশ আমলের আগে এখানে মক্তব, মাদ্রাসা আর পাঠশালা থাকলেও উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ছিল না। নয়আনী জমিদারদের অর্থে চলা মধ্য ইংরেজি স্কুলটি রানি ভিক্টোরিয়ার জুবিলি উপলক্ষে ১৮৮৭ সালে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়, নাম হয় ভিক্টোরিয়া একাডেমি। জেলা বাতায়ন জানায়, এর পুরোনো ভবনটি আর নেই। ১৯১৯ সালে (জেলা বাতায়নের পটভূমি পাতায় ১৯১৮/১৯) জমিদার গোবিন্দ কুমার চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেন জি. কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, যার ব্রিটিশ ধাঁচের ইটের ভবন আজও শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্কের পশ্চিম পাশে দাঁড়িয়ে।

শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমি
শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমির বর্তমান ভবন (২০১৫)। বিদ্যালয়টি ১৮৮৭ সালে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়।
ছবি: Anup Sadi · CC BY-SA 4.0 · উৎস

১৮৯৭ সালের ভূমিকম্প

১৮৯৭ সালের বড় ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের মূল স্রোত পশ্চিমে সরে যমুনায় মেশে। শেরপুরের পাশের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ক্ষীণ হয়ে যায়, আর শহরের বহু পুরোনো ইমারত ক্ষতিগ্রস্ত হয় (বাংলা ও ইংরেজি উইকিপিডিয়া)।

কৃষকের বিদ্রোহ: পাগলপন্থী থেকে টঙ্ক আন্দোলন

জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে শেরপুর আর গারো পাহাড়ের পাদদেশ বারবার জেগে উঠেছে। এ অঞ্চলের ইতিহাসে এই বিদ্রোহগুলোই সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়।

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ

ওয়ারেন হেস্টিংস থেকে কর্নওয়ালিসের আমল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও স্থানীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে এখানে ফকির-সন্ন্যাসীদের বিদ্রোহ হয় (উইকিপিডিয়া)। জেলা বাতায়ন ফকির বিদ্রোহের এক নেত্রী সোনাবানু ফকিরের নাম উল্লেখ করেছে, যাঁর উত্তরসূরিরা গাজীর খামারের গিদ্দাপাড়ায় থাকেন।

পাগলপন্থী আন্দোলন: করম শাহ ও টিপু শাহ

সুফি সাধক করম শাহ (মৃত্যু ১৮১৩) পাগলপন্থী নামে একটি মতাদর্শের প্রবর্তক; সুফিবাদ, হিন্দু দর্শন আর লোকবিশ্বাসের মিশেলে এটি সাম্য আর ভূমিহীন কৃষকের অধিকারের কথা বলত। গারো, হাজং, হদিসহ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী আর মুসলমান-হিন্দু কৃষক এর অনুসারী হয়। করম শাহের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে টিপু শাহের নেতৃত্বে আন্দোলনটি উচ্চ খাজনা, জমিদার আর কোম্পানির বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহে রূপ নেয়। ইংরেজি উইকিপিডিয়া অনুযায়ী টিপু শাহ এ অঞ্চলে সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে গড়জরিপায় রাজধানী স্থাপন করেন, অনুসারীরা ব্রিটিশদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ১৮৩৩ সালে টিপু ও তাঁর সহযোগীরা গ্রেপ্তার হন; এরপর সরকার খাজনা কমানোসহ কৃষকদের অনেক দাবি মেনে নেয়। টিপু শাহের মৃত্যু ১৮৫১ সালে (কোনো সূত্রে ১৮৫২)।

জেলা বাতায়নে টিপু পাগলের আন্দোলনকে শেরপুরে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, আর জানানো হয়েছে, তাঁর বংশধরেরা কংশ নদীর তীরে লেটিরকান্দা গ্রামের “পাগলবাড়ি”-তে থাকেন। টিপুর মৃত্যুর পর হদি নেতা জানকু ও দোবরাজ পাথর শেরপুর শহর দখল করে প্রায় দুই বছর ধরে রেখেছিলেন বলে উইকিপিডিয়ায় যে দাবি আছে, তার কোনো সূত্র দেওয়া নেই; তাই এটি যাচাইসাপেক্ষ।

কামারের চরের কৃষক-প্রজা সম্মেলন

১৯০৬, ১৯১৪ ও ১৯১৭ সালে খোশ মোহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সদর উপজেলার কামারের চরে কৃষক ও প্রজা সম্মেলন হয়। বাংলাপিডিয়ার ভাষ্যে এগুলো ছিল হিন্দু জমিদারদের হাতে মুসলমান প্রজাদের নিপীড়নের প্রতিবাদ।

টঙ্ক, নানকার ও হাজং কৃষকের লড়াই

“টঙ্ক” ছিল উত্তর ময়মনসিংহের একধরনের খাজনা, যা নগদ টাকায় নয়, ধানে দিতে হতো; ফসল না হলেও মাফ ছিল না। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী প্রতি সোয়া একরে ১০–১৫ মণ ধান দিতে হতো, যা নগদ খাজনার দ্বিগুণেরও বেশি। টঙ্ক প্রজাদের বড় অংশ ছিলেন গারো ও হাজং কৃষক। ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সভার নেতৃত্বে, কমিউনিস্ট নেতা মণি সিংহের সংগঠনে টঙ্ক আন্দোলন শুরু হয়। বাংলাপিডিয়া যে থানাগুলোর নাম দিয়েছে, তার মধ্যে আছে আজকের শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী, সঙ্গে কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও হালুয়াঘাট। দেশভাগের পর থেমে ১৯৪৮ সালে আবার শুরু হয়ে আন্দোলন চলে ১৯৫০ পর্যন্ত। ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে টঙ্ক প্রজারা তাঁদের জমির মালিকানা পান।

জেলা বাতায়নে শেরপুরের নানকার আন্দোলনেরও উল্লেখ আছে: জমিদারবাড়িতে বেগার খাটার বিনিময়ে জমি ভোগের প্রথার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন রবি নিয়োগী, খন্দকার মজিবর রহমান, আব্দুর রশিদ ও ছফিল উদ্দীন। ব্রহ্মপুত্রের উত্তর থেকে গারো পাহাড় পর্যন্ত আদিবাসীদের স্বায়ত্তশাসিত এলাকার দাবিতে “আদিস্থান আন্দোলন”-এর কথাও সেখানে আছে। জেলা বাতায়ন আরও জানায়, ১৯৩৯ সালের এপ্রিলের দিকে ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা সুভাষচন্দ্র বসু শেরপুরে এসেছিলেন।

১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধে শেরপুর

১৯৭০ সালেই শেরপুরে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে ওঠে। জেলা বাতায়ন জানায়, আড়াই আনী জমিদারবাড়িতে (আজকের সরকারি মহিলা কলেজ) সুবেদার আব্দুল হাকিম ১২ জন তরুণকে সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রশিক্ষণ দেন। খবর সংযোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৬ এপ্রিল ১৯৭১ বেলা ১১টার দিকে মর্টারের গোলা ছুড়তে ছুড়তে পাকিস্তানি বাহিনী শেরপুর শহরে ঢোকে। মুক্তিযুদ্ধে শেরপুর ছিল ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে, সেক্টর অধিনায়ক কর্নেল আবু তাহের।

গণহত্যা ও সম্মুখযুদ্ধ

তারিখ (১৯৭১)স্থানঘটনা
৩০ এপ্রিলজগৎপুর, ঝিনাইগাতীতিন দিক থেকে গ্রাম ঘিরে গুলি; ৪২ জন নিহত, শতাধিক বাড়িতে আগুন (প্রথম আলো)
২৫ মেনাকুগাঁও-ডালু সীমান্ত, নালিতাবাড়ীসীমান্তে আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিক, ইপিআর সদস্য ও পুলিশ হত্যা; নাকুগাঁওয়ে গণকবর ও স্মৃতিস্তম্ভ আছে
৬ জুলাইচেল্লাখালী, নালিতাবাড়ীসম্মুখযুদ্ধে কমান্ডার নাজমুল আহসানসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ (বাংলাপিডিয়া)
২৫ জুলাইসোহাগপুর, নালিতাবাড়ী১৮৭ জন নিহত, বহু নারী নির্যাতিত (বাংলা উইকিপিডিয়া ও প্রথম আলো; বাংলাপিডিয়ায় ২৭ জুলাই, ১৮৫ জন)
৩ আগস্টনকশী বিওপি, ঝিনাইগাতীগারো পাহাড়ের পাদদেশে বড় সম্মুখযুদ্ধ; মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ হতাহত
২৪ নভেম্বরসূর্যদী, কামারিয়া ইউনিয়ন, সদররাজাকার কমান্ডারের খবরের ভিত্তিতে হামলা; প্রথম আলো ও খবর সংযোগে ৪৭ জন, বাংলাপিডিয়ায় ৫২ জন নিহত

এর বাইরে নকলার নারায়ণখোলা, গৌড়দ্বারসহ কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন (বাংলাপিডিয়া)। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী সদর উপজেলায় দুটি বধ্যভূমি আছে, যার একটি শেরী সেতুর পাশের শ্মশানে।

সোহাগপুর: বিধবাপল্লী থেকে বীরকন্যা পল্লী

২৫ জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের পর সোহাগপুর গ্রামে প্রায় চল্লিশজন নারী একসঙ্গে বিধবা হন; গ্রামটির নাম হয়ে যায় “বিধবাপল্লী”। পরে সম্মান জানিয়ে একে “বীরকন্যা পল্লী” ঘোষণা করা হয়, আর ২০২২ সালে গণহত্যার স্মরণে নির্মিত হয় “সৌরজায়া” স্মৃতিসৌধ। এই গণহত্যার পরিকল্পনা ও পরামর্শের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালে শেরপুরে জন্ম নেওয়া আলবদর নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়; আপিল বিভাগ সোহাগপুরের অভিযোগে দণ্ড বহাল রাখে, আর ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল তা কার্যকর হয়।

কামালপুর থেকে শেরপুরের মুক্তি

শেরপুরের মুক্তি জড়িয়ে আছে পাশের জামালপুরের বকশীগঞ্জের কামালপুর ঘাঁটির লড়াইয়ের সঙ্গে। খবর সংযোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৪ অক্টোবর কামালপুর অবরোধ শুরু হয়। ১৪ নভেম্বর কামালপুর আক্রমণের সময় গোলার আঘাতে কর্নেল তাহের একটি পা হারান; একই দিন শেরপুর-বকশীগঞ্জ সড়কের মাঝপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের অ্যামবুশে পাকিস্তানি বাহিনী হতাহত হয়। ৪ ডিসেম্বর কামালপুরের পাকিস্তানি ঘাঁটি আত্মসমর্পণ করলে ঝিনাইগাতীর শালচূড়া ও আহম্মদনগর ক্যাম্প থেকে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটতে শুরু করে। ৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে তারা শেরপুর ছেড়ে জামালপুরের পিটিআই ক্যাম্পে জড়ো হয়।

৭ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা হেলিকপ্টারে শহরের পৌর পার্কে (আজকের শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক) নামেন। ছাত্র-জনতার সংবর্ধনায় তিনি শেরপুরকে মুক্ত ঘোষণা করেন, ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা; বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী তিনি সেখানে বলেছিলেন, সাত দিনের মধ্যে ঢাকা মুক্ত হবে। উপজেলাভিত্তিক মুক্তির দিন (বাংলা উইকিপিডিয়া): ঝিনাইগাতী ৪ ডিসেম্বর, শ্রীবরদী ৬ ডিসেম্বর, শেরপুর সদর ৭ ডিসেম্বর, নকলা ৮ ডিসেম্বর (কোনো কোনো প্রতিবেদনে ৯ ডিসেম্বর)।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য শেরপুরের শহীদ শাহ মোতাসীম বিল্লাহ খুররম বীর বিক্রম, আর কমান্ডার জহুরুল হক মুন্সী ও ডা. মাহমুদুর রহমান বীর প্রতীক খেতাব পান (বাংলা উইকিপিডিয়া)। বিডিনিউজ২৪-এর ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে জহুরুল হক মুন্সীকে দুবার বীর প্রতীক খেতাব পাওয়া দেশের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা বলা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর: মহকুমা থেকে জেলা

জেলা প্রশাসনের পটভূমি পাতা অনুযায়ী ১৯৭৯ সালের ৮ জানুয়ারি শেরপুর থানা মহকুমায় উন্নীত হয় (বাংলা উইকিপিডিয়ায় ১৯৭৮)। এরশাদ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সময় ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর পূর্ণাঙ্গ জেলা হয়; একই বছর সদর থানা উপজেলায় রূপ নেয়। জেলা পুলিশের পোর্টাল ও ইংরেজি উইকিপিডিয়ার তথ্যছকে তারিখটি ১২ ফেব্রুয়ারি লেখা থাকলেও জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি। ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত হলে শেরপুর তার অংশ হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে জেলার পরিচয়ে যোগ হয়েছে দুটি জিআই স্বীকৃতি: ২০২৩ সালে তুলশীমালা চাল আর ২০২৪ সালে শেরপুরের ছানার পায়েস (পড়ুন শেরপুরের বিখ্যাত খাবার)। জেলার এখনকার প্রশাসনিক তথ্য প্রশ্নোত্তরে পাবেন শেরপুর জেলা: ৩০টি প্রশ্নের উত্তর লেখায়।

শেরপুরের জি. কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও পুকুর
জি. কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (প্রতিষ্ঠা ১৯১৯) ও সামনের পুকুর, শেরপুর শহর।
ছবি: Anup Sadi · CC BY-SA 4.0 · উৎস

শেরপুরের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য মানুষ

শুধু সেই ব্যক্তিদের নাম দেওয়া হলো, যাঁদের শেরপুরের সঙ্গে সম্পর্ক ও পরিচয় একাধিক বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া গেছে।

নামপরিচয়
মজলিস খান হুমায়ুন১৪৯১ সালে গড় দলিপা জয়ী সুলতানি সেনাপতি, গড়জরিপার প্রথম মুসলিম শাসক; গড়জরিপা দুর্গের ভেতরে সমাহিত
করম শাহ (মৃত্যু ১৮১৩) ও টিপু শাহ (মৃত্যু ১৮৫১/৫২)পাগলপন্থী আন্দোলনের প্রবর্তক ও নেতা
চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কারবাগরাকসারের সংস্কৃত পণ্ডিত (জেলা বাতায়ন)
খোশ মোহাম্মদ চৌধুরীকামারের চরের কৃষক-প্রজা সম্মেলনের নেতা
রবি নিয়োগীকমিউনিস্ট নেতা, নানকার আন্দোলনের সংগঠক; ১৯৭০-৭১-এর সংগ্রাম পরিষদেও ছিলেন
খন্দকার আবদুল হামিদ (১৯১৮–১৯৮৩)কসবায় জন্ম; সাংবাদিক ও রাজনীতিক, ১৯৭৭ সালে সাংবাদিকতায় একুশে পদক
ডা. বদরুল আলম (১৯২৯–১৯৮০)শেরপুরে জন্ম; চিকিৎসক ও ভাষাসৈনিক, প্রথম শহীদ মিনারের নকশাকার হিসেবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়; ২০১৪ সালে মরণোত্তর একুশে পদক
শহীদ শাহ মোতাসীম বিল্লাহ খুররমমুক্তিযোদ্ধা, বীর বিক্রম
জহুরুল হক মুন্সীমুক্তিযোদ্ধা, দুবার বীর প্রতীক (বিডিনিউজ২৪)
নালিতাবাড়ী শহীদ মিনার
নালিতাবাড়ী শহীদ মিনার। দেশের প্রথম শহীদ মিনারের নকশার কৃতিত্ব দেওয়া হয় শেরপুরে জন্ম নেওয়া ডা. বদরুল আলমকে।
ছবি: Anup Sadi · CC BY-SA 4.0 · উৎস

ইতিহাসের খোঁজে কোথায় যাবেন

ঘাগড়া খান বাড়ি মসজিদ, গড়জরিপা, মাইসাহেবা মসজিদ, পৌনে তিন আনী জমিদারবাড়ি, গোপীনাথ মন্দির, শের আলী গাজীর দরগা আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থানগুলোর অবস্থান, ইতিহাস ও যাওয়ার উপায় এক জায়গায় পাবেন শেরপুরের ঐতিহাসিক স্থান লেখায়। শহরের বাইরে এক দিনের ভ্রমণ সাজাতে দেখুন শেরপুর ভ্রমণ পরিকল্পনা, আর পথ চিনে নিতে দেখুন আমাদের মানচিত্র।

সূত্র

সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। প্রাচীন ও মধ্যযুগের অনেক তথ্য স্থানীয় জনশ্রুতি ও পরবর্তীকালের ইতিহাসগ্রন্থনির্ভর; নতুন নথি বা গবেষণা পেলে লেখাটি হালনাগাদ করা হবে।

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

আরও পড়ুন

সব দেখুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য

শেরপুরের ঐতিহাসিক স্থান: ঘাগড়া মসজিদ, গড়জরিপা, জমিদারবাড়ি ও মাজার—কোথায়, কীভাবে যাবেন

ঘাগড়া খান বাড়ি মসজিদ, গড়জরিপা দুর্গ ও বারদুয়ারী মসজিদ, মাইসাহেবা মসজিদ, পৌনে তিন আনী জমিদারবাড়ি, গোপীনাথ মন্দির, শের আলী গাজীর দরগা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থান—ইতিহাস ও যাতায়...

· ১২ মিনিটে পড়ুন

শেরপুর নিয়ে আপনার গল্প আছে?

ভ্রমণ, ইতিহাস, খাবার বা প্রিয় মানুষ — লিখে ফেলুন, যাচাইয়ের পর প্রকাশ করা হবে।

লেখা শুরু করুন