আমার শেরপুর ১০ মিনিটে পড়ুন
শেরপুরের উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়। সেখানে ভারী বৃষ্টি হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভোগাই, চেল্লাখালী, মহারশি আর সোমেশ্বরী দিয়ে নেমে আসে পাহাড়ি ঢল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এই ঢলে বাঁধ ভেঙে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী আর শ্রীবরদীর শত শত গ্রাম ডুবে যায়, জেলায় অন্তত ৮ থেকে ১১ জনের মৃত্যু হয়। আগাম সতর্কবার্তা কোথায় পাবেন, ঢলের আগে-সময়ে-পরে কী করবেন, আশ্রয় আর ত্রাণের জন্য কাকে ফোন করবেন, সব এক জায়গায়।
এই লেখার তথ্য নেওয়া হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, জেলা ও উপজেলা তথ্য বাতায়ন এবং জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে। প্রতিটি ফোন নম্বরে চাপ দিলে সরাসরি কল হবে। নিচে সূত্রের তালিকা দেওয়া আছে।
এক নজরে
| সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা | নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর সীমান্ত ও নদীতীরের গ্রাম; ঢলের পানি নেমে নকলা ও সদরের নিচু এলাকাতেও যায় |
|---|---|
| ঝুঁকির সময় | বর্ষা (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) আর অক্টোবরের শুরু; ২০২৪ সালের বড় ঢল এসেছিল ৪–৫ অক্টোবর, ২০২৬ সালে ২০ জুলাই |
| প্রধান নদী | ভোগাই, চেল্লাখালী, মহারশি, সোমেশ্বরী; জেলার দক্ষিণে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র |
| দুর্যোগের আগাম বার্তা | ১০৯০ |
| জরুরি সাহায্য (পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স) | ৯৯৯ |
| নদীর পানির খবর | বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র: ffwc.gov.bd; পানি উন্নয়ন বোর্ড, শেরপুর: ০১৭০৫-১২১৬৯৩ |
শেরপুরে পাহাড়ি ঢল কেন এত দ্রুত আসে
শেরপুরের উত্তর সীমান্তের গারো পাহাড়ের নদীগুলো নেমে এসেছে ভারতের মেঘালয় থেকে। উজানে পাহাড়ে টানা বৃষ্টি হলে সেই পানি খাড়া ঢাল বেয়ে খুব দ্রুত সমতলে নামে। একে বলে পাহাড়ি ঢল বা আকস্মিক বন্যা। সাধারণ বন্যায় পানি কয়েক দিন ধরে ধীরে বাড়ে, কিন্তু ঢলে কয়েক ঘণ্টায় নদী ফুলে বাঁধ উপচে বা ভেঙে গ্রামে ঢোকে। স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি কম হলেও উজানের বৃষ্টিতে ঢল আসতে পারে; ২০২৬ সালের ২০ জুলাই নালিতাবাড়ীতে আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ২৪ মিলিমিটার, তবু উজানের ঢলে ভোগাই বিপৎসীমার ওপরে উঠে যায়।
যে নদীগুলোর দিকে নজর রাখবেন
| নদী | এলাকা | যা জানা গেছে |
|---|---|---|
| ভোগাই | নালিতাবাড়ী (নাকুগাঁও, পানিহাটা থেকে শহর হয়ে দক্ষিণে) | গারো পাহাড় থেকে রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এর বাঁধ ভাঙে; ২০ জুলাই ২০২৬ নালিতাবাড়ী স্টেশনে বিপৎসীমার প্রায় ১০ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল |
| চেল্লাখালী | নালিতাবাড়ী (বাতকুচি, বাঘবেড়) | ২০২৪ সালে এর বাঁধও ভাঙে; পানি মাপা হয় বাতকুচি স্টেশনে। ২০ জুলাই ২০২৬ এটি বিপৎসীমার নিচে ছিল |
| মহারশি | ঝিনাইগাতী | ২০২৪ ও ২০২৬ দুবারই পানি বেড়ে ঝিনাইগাতী বাজারের নিচু অংশ ডুবেছে; ২০২৪ সালে উপজেলা পরিষদ চত্বরেও পানি ওঠে |
| সোমেশ্বরী | ঝিনাইগাতী | ২০২৪ সালের অক্টোবরের ঢলে পানি বেড়েছিল |
| পুরাতন ব্রহ্মপুত্র | শেরপুর সদর, জেলার দক্ষিণ সীমা | পানি উন্নয়ন বোর্ড এর পানিও নিয়মিত মাপে; ৮ অক্টোবর ২০২৪ এটি বিপৎসীমার ৫২৩ সেন্টিমিটার নিচে ছিল, অর্থাৎ সেবারের বন্যা ছিল মূলত পাহাড়ি নদীর |
ভোগাই নদীর পানিহাটা অংশ ঘুরতে যাওয়ার নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা আলোচনা আছে আমাদের পানিহাটা-তারানি ভ্রমণ গাইডে।
সাম্প্রতিক বন্যা: কী ঘটেছিল
অক্টোবর ২০২৪: কয়েক দশকের বড় ঢল
- ৪–৫ অক্টোবর: টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে ভোগাই ও চেল্লাখালীর বাঁধ ভেঙে যায়। প্রথম আলোর হিসাবে শেরপুর ও ময়মনসিংহে অন্তত ১৬৩টি গ্রাম ডোবে, এর মধ্যে ১১৩টি শেরপুরের নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীতে। ঝিনাইগাতীতে অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়, নালিতাবাড়ী-নাকুগাঁও সড়কের ওপর দিয়ে পানি বয়ে যায়।
- প্লাবিত ইউনিয়ন: পোড়াগাঁও, নয়াবিল, রামচন্দ্রকুড়া, বাঘবেড় (নালিতাবাড়ী), রানীশিমুল (শ্রীবরদী) ছাড়াও গড়কান্দা ও নিচপাড়া এলাকা। নন্নী-আমবাগান, নন্নী-মধুটিলা ইকোপার্ক আর আমবাগান-বাতকুচি সড়ক পানির নিচে চলে যায়।
- প্রাণহানি: ৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ৮ জনের মৃত্যুর কথা জানায় (ডেইলি স্টার বাংলা); ৮ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের বরাতে মৃতের সংখ্যা ১১ বলা হয় (দেশ রূপান্তর)। মৃতদের মধ্যে ৫ ও ৮ বছরের দুই শিশুও ছিল। নিহতদের মধ্যে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, নকলা ও সদর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।
- ক্ষতি: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত, প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান ও আগাম শীতের সবজি নষ্ট। ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীতে ২ হাজার ৫৭টি মাছের ঘের ভেসে যায়, প্রাথমিক ক্ষতি ৩০ কোটি টাকার বেশি।
- আশ্রয় ও ত্রাণ: জেলা প্রশাসন জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করে। ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ ও ৮ হাজার মানুষকে রান্না করা খাবার দেওয়া হয়। তবু অনেক এলাকায় খাবার আর সুপেয় পানির সংকট দেখা দেয়, পানি নামার পরও ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি ছিলেন।
ছবি: তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) · পাবলিক ডোমেইন · উৎস
জুলাই ২০২৬: আবার ঢল
২০ জুলাই ২০২৬ বিকেল ৩টায় ভোগাই নদী নালিতাবাড়ী স্টেশনে বিপৎসীমার প্রায় ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীর নিচু এলাকা প্লাবিত হয়, মহারশির পানিতে ঝিনাইগাতী বাজারের নিচু অংশ ডোবে, আর বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটায় একটি বেইলি সেতু স্রোতে ভেসে গিয়ে কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড তখন সতর্ক করে, উজান থেকে ঢল অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে।
শিক্ষা: শেরপুরে ঢল প্রায় প্রতি বর্ষায় আসে, আর বড় ঢল আসতে পারে বর্ষার শেষে অক্টোবরেও। তাই জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রস্তুত থাকাই নিরাপদ।
আগাম সতর্কবার্তা কোথায় পাবেন
- ১০৯০ নম্বরে কল: দুর্যোগের আগাম বার্তা শোনার সরকারি হটলাইন। মোবাইল থেকে কল করে আবহাওয়া ও দুর্যোগের সতর্কবার্তা জানা যায়।
- বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC): পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কেন্দ্রের ওয়েবসাইট ffwc.gov.bd এ নদীর পানির উচ্চতা, বিপৎসীমা আর আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাস দেখা যায়। ভোগাইয়ের পানি মাপা হয় নালিতাবাড়ী স্টেশনে, চেল্লাখালীর পানি বাতকুচি স্টেশনে।
- পানি উন্নয়ন বোর্ড, শেরপুর: নদীর সর্বশেষ অবস্থা আর বাঁধের ঝুঁকি জানতে ০১৭০৫-১২১৬৯৩; উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় ০১৭৪২-০৭৩০২৯।
- স্থানীয় ঘোষণা: ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদের মাইক আর উপজেলা প্রশাসনের ঘোষণায় কান রাখুন। টেলিভিশন ও রেডিওর সংবাদে "বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত" কথাটি শুনলে বুঝবেন নদী বাঁধ উপচানোর মতো অবস্থায় আছে।
বিপদের লক্ষণ চিনুন: উজানে টানা বৃষ্টি, নদীর পানি হঠাৎ ঘোলা হয়ে দ্রুত বাড়া, স্রোতে গাছের ডাল ও আবর্জনা ভেসে আসা, বাঁধে চুইয়ে পানি পড়া বা ফাটল। এর যেকোনোটি দেখলে দেরি না করে উঁচু জায়গায় সরে যান এবং ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানান।
ঢলের আগে: এখনই যা করে রাখবেন
- নিকটের আশ্রয়কেন্দ্র বা উঁচু জায়গা (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, উঁচু সড়ক) কোনটি, আর সেখানে যাওয়ার পথ পরিবারের সবাইকে চিনিয়ে রাখুন।
- একটি জরুরি ব্যাগ গুছিয়ে রাখুন: জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, জমির দলিল ও জরুরি কাগজ পলিথিনে মুড়িয়ে; নিয়মিত ওষুধ, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, টর্চ, মোমবাতি-দিয়াশলাই, চার্জ দেওয়া পাওয়ার ব্যাংক, শুকনো খাবার (চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কুট), নগদ টাকা।
- মোবাইলে জরুরি নম্বরগুলো সেভ করুন (নিচের তালিকা দেখুন), আর আত্মীয়দের সঙ্গে ঠিক করে রাখুন বিচ্ছিন্ন হলে কোথায় দেখা হবে।
- ধান-চাল, বীজ আর সার মাচা বা উঁচু তাকে রাখুন। নলকূপের মুখ উঁচু করে বাঁধিয়ে রাখলে বন্যার পরও পানি পাওয়া সহজ হয়।
- গবাদিপশু সরানোর উঁচু জায়গা আগে ঠিক করুন, কিছু শুকনো খড় ও গো-খাদ্য মজুত রাখুন।
- শিশুদের সাঁতার শেখান; ঢলের সময় শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
ঢলের সময়: জীবন বাঁচানোর নিয়ম
- দেরি করবেন না: সরে যাওয়ার ঘোষণা এলে বা পানি ঘরে ঢুকতে শুরু করলে আগে মানুষ, পরে মালামাল। বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের আগে সরান।
- স্রোতের পানিতে নামবেন না: হাঁটুসমান স্রোতও মানুষকে ভাসিয়ে নিতে পারে। ভাঙা বাঁধ, কালভার্ট বা ডুবে যাওয়া সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করবেন না; গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে পানিতে ডোবা সড়কে নামবেন না।
- শিশুদের চোখে চোখে রাখুন: ২০২৪ সালের বন্যায় শেরপুরে ৫ ও ৮ বছরের দুই শিশু মারা যায়। বন্যার পানিতে খেলতে বা মাছ ধরতে দেবেন না।
- বিদ্যুৎ থেকে সাবধান: ঘরে পানি ঢুকলে মূল সুইচ বন্ধ করুন, ঝুলে পড়া বা পানিতে ডোবা তার ছোঁবেন না।
- সাপ ও পোকামাকড়: পানিতে সাপ উঠে আসে; রাতে টর্চ ছাড়া চলবেন না। সাপে কাটলে ওঝা নয়, দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিন।
- নৌকায় উঠলে: অতিরিক্ত মানুষ তুলবেন না, শিশুদের মাঝখানে বসান।
- আটকে পড়লে: ছাদ বা উঁচু জায়গায় উঠে কাপড় নেড়ে বা টর্চ জ্বেলে সংকেত দিন, আর ৯৯৯ নম্বরে কল করে নিজের ইউনিয়ন, গ্রাম ও কাছের পরিচিত স্থানের নাম বলুন।
আশ্রয়কেন্দ্র: কোথায় যাবেন
শেরপুর জেলার বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের কোনো হালনাগাদ তালিকা জেলা বা উপজেলা তথ্য বাতায়নে প্রকাশিত পাওয়া যায়নি, তাই আমরা নিজেরা কোনো তালিকা দিচ্ছি না। ২০২৪ সালের বন্যায় জেলা প্রশাসন জেলার সব সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করেছিল। আপনার এলাকার আশ্রয়কেন্দ্র কোনটি, তা আগে থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে জেনে নিন। পিআইও কার্যালয় উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণের কাজ দেখে।
| উপজেলা | ইউএনও কার্যালয় | পিআইও কার্যালয় (দুর্যোগ ও ত্রাণ) |
|---|---|---|
| নালিতাবাড়ী | ০১৭১৩-৬৫১৩২৯, ০৯৩২৪৭৩০০২ | ০১৭২৪-০৯৪৫২৫ |
| ঝিনাইগাতী | ০১৭১৩-৬৫১৩২৫, ০২৯৯৭৭৮৩৪০১, ০১৭৮৪-০৯০৮০৬ | ০১৬১১-৬৩৬৩১৯, ০৯৩২২৭৪১১৫ |
| শ্রীবরদী | ০১৭৮২-৮৯২৬৫৫, ০৯৩২৫৫৬০০২ | ০৯৩২৫৫৬০৭৭, ০১৭১৭-৫৪০৮২৭, ০১৭০০-৭১৭২২৯ |
| নকলা | ০১৭১৩-৬৫১৩২৩, ০৯৩২৩৭৫০০১ | ০২৯৯৭৭৮২৯২৮, ০১৭১৭-২৭৬০৮০, ০১৭০০-৭১৭২৩২ |
| শেরপুর সদর | ০১৭১৩-৬৫১৩২১, ০৯৩১৬১৩২৯ | ০৯৩১৬২৫৫৪, ০১৭০০-৭১৭২২৮, ০১৭১৬-৬২৫২৭৭ |
আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় জরুরি ব্যাগ, পানির বোতল আর শিশুদের খাবার সঙ্গে নিন। নারী ও কিশোরীদের জন্য আলাদা জায়গা না থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান।
জরুরি নম্বর
| প্রয়োজন | নম্বর |
|---|---|
| জাতীয় জরুরি সেবা (পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স) | ৯৯৯ |
| দুর্যোগের আগাম বার্তা | ১০৯০ |
| সরকারি তথ্য ও সেবা | ৩৩৩ |
| ফায়ার সার্ভিস হটলাইন | ১০২, ০২২২৩৩৫৫৫৫৫ |
| জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শেরপুর | ০১৭১১-৫৯৪৯০১, ০৯৩১৬১৯০০, ০২৯৯৭৭৮১৯০০ |
| জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় | ০১৭০০-৭১৬৭৪১, ০১৫৫৮-৩৭৫৯৪৪ |
| জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম | ০১৩২০-১০৭০৯৮, ০১৩২০-১০৭০৯৯, ০৯৩১৬১২০৪ |
| পানি উন্নয়ন বোর্ড, শেরপুর | ০১৭০৫-১২১৬৯৩ |
| ফায়ার স্টেশন, নালিতাবাড়ী | ০১৭৭১-০০৭২১০ |
| ফায়ার স্টেশন, ঝিনাইগাতী | ০১৭৪৩-২৯৯৮৯৮, ০১৯০১-০২৪৩০১ |
| ফায়ার স্টেশন, শ্রীবরদী | ০১৭৭৯-৩৫৯৪৯৪, ০১৯০১-০২৪৩১১ |
| ফায়ার স্টেশন, শেরপুর সদর | ০১৯০১-০২৪২৯৯, ০১৭৩০-০০২১৮৭, ০২৯৯৮৮১০২২২ |
থানা, অ্যাম্বুলেন্স আর অন্যান্য সরকারি দপ্তরের নম্বর পাবেন শেরপুরের জরুরি নম্বর পোস্টে। হাসপাতাল ও আশপাশের সরকারি অফিস কোথায়, তা দেখতে পারেন আমাদের মানচিত্রে।
বন্যার পরে: স্বাস্থ্য ও ঘরে ফেরা
পানি নামার পরের কয়েক সপ্তাহ পেটের অসুখ, চর্মরোগ আর সাপের কামড়ের ঝুঁকি থাকে। ২০২৪ সালে পানি নামতে শুরু করার পরই শেরপুরে খাবার ও সুপেয় পানির সংকট সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
- পানি: ডুবে যাওয়া নলকূপের পানি সরাসরি খাবেন না। পানি ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে খান; নলকূপ জীবাণুমুক্ত করতে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর বা ইউনিয়ন পরিষদের সাহায্য নিন।
- ডায়রিয়া: পাতলা পায়খানা হলে সঙ্গে সঙ্গে খাবার স্যালাইন খাওয়ান। শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়লে, প্রস্রাব কমে গেলে বা বমি না থামলে দেরি না করে হাসপাতালে নিন।
- খাবার: পচা বা পানিতে ভেজা খাবার ফেলে দিন, রান্নার আগে ও খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোবেন।
- চর্মরোগ ও ক্ষত: বন্যার পানিতে হাঁটার পর পা পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে নিন; কাটা-ছেঁড়া হলে পরিষ্কার রাখুন, ফুলে গেলে বা জ্বর এলে চিকিৎসকের কাছে যান।
- ঘরে ফেরার আগে: দেয়াল ও খুঁটি নড়বড়ে কি না দেখুন, বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা না করে সুইচ চালু করবেন না, ঘরের কোণে বা মাচায় সাপ লুকিয়ে আছে কি না সাবধানে দেখুন।
- মশা: জমে থাকা পানিতে মশা জন্মায়; মশারি টানিয়ে ঘুমান।
সরকারি হাসপাতাল
| হাসপাতাল | ফোন |
|---|---|
| ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, শেরপুর | ০১৭০১-২৪৮২২০, ০৯৩১৬১২৯৬, ০১৮৪৪-৫৭৭৩৯৭ |
| উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নালিতাবাড়ী | ০৯৩২৪৭৩০২৫, ০১৭৩০-৩২৪৫৫৮, ০১৭০১-২৪৮৬৩৭ |
| উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইগাতী | ০১৭০১-২৪৮৬৩৫ |
| উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শ্রীবরদী | ০১৭৩০-৩২৪৫৫৯, ০১৭০১-২৪৮৬৩৮ |
| উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নকলা | ০১৭৩০-৩২৪৫৫৭, ০১৭০১-২৪৮৬৩৬, ০২৯৯৭৭৮২৯২০ |
কৃষক ও খামারিদের জন্য
- ফসলের ক্ষতির হিসাব আর পুনর্বাসন সহায়তার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শেরপুর: ০২৯৯৭৭৮১৪৫৭, ০৯৩১৬১৪৭০, ০১৭১৮-৫২৮৪০৫।
- গবাদিপশুর রোগ ও চিকিৎসার পরামর্শে প্রাণিসম্পদ কল সেন্টার ১৬৩৫৮ অথবা জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর: ০২৯৯৭৭৮১০৩৬, ০৯৩১৬১৪৫৮।
- ক্ষতির ছবি তুলে রাখুন, আর ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় নাম আছে কি না নিশ্চিত হোন; সরকারি সহায়তা সাধারণত এই তালিকা ধরেই দেওয়া হয়।
ত্রাণ না পেলে বা সমস্যা জানাতে
প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পিআইও কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। সাড়া না পেলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় (০১৭০০-৭১৬৭৪১, ০১৫৫৮-৩৭৫৯৪৪) অথবা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্রে (০১৮৯২-১০৭৪৮৬) জানান। ভাঙা বাঁধ, ডুবে থাকা সড়ক বা ভেসে যাওয়া সাঁকোর মতো এলাকার সমস্যা ছবি দিয়ে তুলে ধরতে পারেন আমাদের এলাকার সমস্যা পাতায়, যাতে অন্যরাও সতর্ক থাকেন।
বর্ষায় মধুটিলা বা গারো পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার আগে নদী ও পথের অবস্থা জেনে নিন; বিস্তারিত পাবেন মধুটিলা ইকোপার্ক গাইডে।
সূত্র
- প্রথম আলো ইংরেজি: শেরপুর ও ময়মনসিংহে ১৬৩ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার প্রতিবেদন (৫ অক্টোবর ২০২৪)
- ঢাকা ট্রিবিউন: শেরপুরের বন্যায় আটজনের মৃত্যুর প্রতিবেদন (৬ অক্টোবর ২০২৪)
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা: শেরপুরে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে, এখন সংকট খাদ্য ও সুপেয় পানির (৭ অক্টোবর ২০২৪)
- দেশ রূপান্তর: শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, মৃত বেড়ে ১১ (৮ অক্টোবর ২০২৪; পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীর পানির তথ্যসহ)
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা: ভোগাই বিপৎসীমার ওপরে ওঠা ও নালিতাবাড়ী-ঝিনাইগাতী প্লাবিত হওয়ার প্রতিবেদন (২০ জুলাই ২০২৬; পানি উন্নয়ন বোর্ড, শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বরাতে)
- বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড: ffwc.gov.bd
- বাংলাদেশ পুলিশ, হটলাইন নম্বর তালিকা (১০৯০ দুর্যোগের আগাম বার্তা)
- শেরপুর জেলা তথ্য বাতায়ন ও উপজেলা তথ্য বাতায়ন: জেলা প্রশাসক, ইউএনও, পিআইও, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যোগাযোগ পাতা (অক্টোবর ২০২৬-এ সংগৃহীত)
- বাংলা উইকিপিডিয়া: ভোগাই নদী (নদীর উৎস ও প্রবেশপথ)
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। এই লেখা সচেতনতার জন্য; দুর্যোগের সময় সবসময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশনা মেনে চলুন। কোনো নম্বর কাজ না করলে আমাদের জানান।