আমার শেরপুর ১০ মিনিটে পড়ুন
শেরপুর শহরের নারায়ণপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল জেলার সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল। কখন বহির্বিভাগ খোলা, টিকিট কোথায় কাটবেন, জরুরি বিভাগে কী হয়, কোন পরীক্ষা কম খরচে করা যায়, ভর্তি আর অ্যাম্বুলেন্সের নিয়ম কী, আর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর নম্বর কত, সব এক জায়গায়।
তথ্যগুলো নেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রি, সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও জেলা তথ্য বাতায়ন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি পাতা আর ২০২৬ সালের সংবাদ প্রতিবেদন থেকে। হাসপাতালের নিজস্ব সিটিজেন চার্টারের পূর্ণ সংস্করণ (সেবার সময় ও ফির তালিকা) আমরা অনলাইনে পাইনি, তাই সময় ও ফির ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের প্রচলিত নিয়ম লেখা হয়েছে। হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে টাঙানো তালিকাই চূড়ান্ত। যাওয়ার আগে ফোন করে জেনে নিন। এই লেখা চিকিৎসা পরামর্শ নয়।
এক নজরে জেলা সদর হাসপাতাল
ছবি: Ahsan 1hdueu · CC BY-SA 4.0 · উৎস
| ঠিকানা | সদর হাসপাতাল রোড, নারায়ণপুর, শেরপুর শহর (নবীনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশা বা ইজিবাইকে কয়েক মিনিট) |
|---|---|
| শয্যা | ২৫০ (নামে); স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রিতে অনুমোদিত ও রাজস্ব খাতের শয্যা এখনো ১০০, জনবলও সেই অনুযায়ী |
| জরুরি বিভাগ | ২৪ ঘণ্টা খোলা, ছুটির দিনেও |
| বহির্বিভাগ | সরকারি কর্মদিবসে সকালে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত (সাধারণত সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা); শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ |
| ফোন | ০১৭০১-২৪৮২২০, ০৯৩১৬১২৯৬, ০১৮৪৪-৫৭৭৩৯৭ |
| ইমেইল | sherpur@hospi.dghs.gov.bd |
| আইসিইউ | ১০ শয্যা, নবম তলায় (১৪ জুন ২০২৬ উদ্বোধন) |
| তত্ত্বাবধায়ক | ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেন (জুলাই ২০২৬-এ নিয়োগের খবর, বিডিনিউজ২৪) |
প্রথম নম্বরটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রিতে হাসপাতালের অফিশিয়াল যোগাযোগ নম্বর; বাকি দুটিও রেজিস্ট্রিতে দেওয়া। কোন নম্বরটি জরুরি বিভাগ বা অ্যাম্বুলেন্স ডেস্কের, তা সরকারিভাবে আলাদা করে প্রকাশ করা নেই। হাসপাতালের অবস্থান দেখতে পারেন স্বাস্থ্যসেবার মানচিত্রে।
কী কী সেবা পাওয়া যায়
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রি অনুযায়ী হাসপাতালে বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ (ভর্তি), ২৪ ঘণ্টার জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি, ফার্মেসি আর অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা আছে। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সিটিজেন চার্টারে জেলা হাসপাতালের দায়িত্ব হিসেবে আগত রোগীর চিকিৎসা, নারীবান্ধব হাসপাতাল কর্মসূচি আর ময়নাতদন্তের কথা বলা আছে।
- বিভাগ: জেলা হাসপাতালে সাধারণত মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও প্রসূতি, শিশু, হাড়-জোড়া, চক্ষু, নাক-কান-গলা, চর্ম, হৃদরোগ, দন্ত আর অ্যানেসথেসিয়ার কনসালট্যান্ট পদ থাকে। কোনো পদ শূন্য থাকলে সেই বিভাগের সেবা সীমিত হয়, তাই নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ দেখাতে চাইলে আগে ফোনে জেনে নিন।
- শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড: গরম আর বর্ষায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে; ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে দিনে গড়ে ২০ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তির কথা এসেছে।
- প্রসূতি সেবা: গর্ভকালীন চেকআপ, স্বাভাবিক প্রসব আর প্রয়োজনে সিজার।
- আইসিইউ: করোনাকালে প্রায় ২১ কোটি টাকায় তৈরি ১০ শয্যার আইসিইউ জনবলের অভাবে বছরের পর বছর বন্ধ ছিল। ১৪ জুন ২০২৬ সীমিত জনবল নিয়ে চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়, তবে পরে কিছু সংবাদমাধ্যমে জনবলের অভাবে পুরোপুরি চালু না হওয়ার খবরও এসেছে। আইসিইউ শয্যা লাগবে মনে হলে রোগী নেওয়ার আগে হাসপাতালে ফোন করে খালি আছে কি না জেনে নিন।
- ময়নাতদন্ত ও মেডিকো-লিগ্যাল: দুর্ঘটনা, মারামারি বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত আর জখমি সনদ (ইনজুরি সার্টিফিকেট) জেলা হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়, সাধারণত পুলিশের অনুরোধে।
বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম
- সকাল সকাল যান: বহির্বিভাগে ভিড় সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। টিকিট কাউন্টার বন্ধ হওয়ার আগেই পৌঁছান।
- টিকিট কাটুন: বহির্বিভাগের টিকিট নামমাত্র মূল্যের (সাধারণত ১০ টাকার মতো; কাউন্টারে টাঙানো দামই চূড়ান্ত)। নারী, পুরুষ আর বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সাধারণত আলাদা লাইন থাকে।
- কক্ষ নম্বর জেনে নিন: টিকিটে বা কাউন্টারে কোন বিভাগের কোন কক্ষে যাবেন তা বলে দেওয়া হয়। কোন বিভাগে যাবেন বুঝতে না পারলে মেডিসিন (বড়দের) বা শিশু বিভাগে (ছোটদের) যান।
- ঔষধ নিন: প্রেসক্রিপশনের যে ঔষধ হাসপাতালে সরবরাহ আছে, তা ফার্মেসি কাউন্টার থেকে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। বাকিগুলো বাইরে থেকে কিনতে হয়।
- পরীক্ষা লাগলে: হাসপাতালের প্যাথলজি বা এক্স-রে বিভাগে সরকারি ফি জমা দিয়ে রশিদ নিন। রিপোর্ট নিয়ে আবার একই ডাক্তারকে দেখাতে পারেন।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সরকারি ফি
সরকারি হাসপাতালের পরীক্ষার ফি (ইউজার ফি) সরকার ঠিক করে দেয় এবং তা রশিদের বিনিময়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। সাধারণত রক্তের রুটিন পরীক্ষা (সিবিসি), রক্তে শর্করা, প্রস্রাব-মল পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ, এক্স-রে, ইসিজি আর আলট্রাসনোগ্রামের মতো পরীক্ষা জেলা হাসপাতালে করা যায়। কোন দিন কোন যন্ত্র চালু আছে আর প্রতিটির ফি কত, তা প্যাথলজি ও রেডিওলজি বিভাগের সামনে টাঙানো তালিকায় দেখে নিন।
- ডেঙ্গু পরীক্ষা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি ৫০ টাকা।
- রশিদ নিন: ফি দেওয়ার পর সরকারি রশিদ নিতে ভুলবেন না। রশিদ ছাড়া কেউ টাকা চাইলে অভিযোগ করুন।
- বাইরে পাঠানো হলে: কোনো পরীক্ষা হাসপাতালে না হলে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়। নিবন্ধিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা পাবেন শেরপুরের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকায়। নির্দিষ্ট কোনো সেন্টারে যেতে চাপ দেওয়া হলে তা মানতে বাধ্য নন।
জরুরি বিভাগ ও ভর্তি
- ২৪ ঘণ্টা: রাত, শুক্রবার বা ঈদের ছুটিতেও জরুরি বিভাগে মেডিকেল অফিসার থাকেন। জরুরি বিভাগের জন্য আলাদা টিকিট কাটতে হয়।
- ভর্তি: জরুরি বিভাগ বা বহির্বিভাগের ডাক্তার ভর্তির পরামর্শ দিলে ভর্তি কাউন্টারে নাম লিখিয়ে ওয়ার্ডে যেতে হয়। সাধারণ ওয়ার্ডের শয্যা বিনা ভাড়ায়, তবে ভর্তির সময় নামমাত্র ফি লাগতে পারে; কেবিনের দৈনিক ভাড়া আলাদা। রোগীর চাপে শয্যা না পেলে মেঝেতে বা বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
- সঙ্গে রাখুন: রোগীর আগের কাগজপত্র, চলমান ঔষধের নাম, একজন অভিভাবক আর কিছু নগদ টাকা।
- রেফার: জটিল রোগী (বড় অস্ত্রোপচার, গুরুতর আঘাত, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা ইত্যাদি) সাধারণত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রেফার হলে রেফারেল কাগজ আর সব রিপোর্ট সঙ্গে নিন।
- রক্ত লাগলে: অস্ত্রোপচার বা প্রসবের জন্য রক্তের দরকার হলে আমার শেরপুরের রক্তের অনুরোধ পাতায় অনুরোধ দিন।
অ্যাম্বুলেন্স
হাসপাতালের নিজস্ব সরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রি)। রোগী ময়মনসিংহ বা ঢাকায় রেফার হলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জরুরি বিভাগে বা উপরের নম্বরে খোঁজ নিন; সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নির্ধারিত হারে রশিদের বিনিময়ে নেওয়া হয়। বাসা বা দুর্ঘটনাস্থল থেকে রোগী আনতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন। সব অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি নম্বর আছে শেরপুর জেলার জরুরি নম্বর লেখায়।
জেলা হাসপাতালের যে চিকিৎসকদের চেম্বারও আছে
ডাক্তারদের ডিরেক্টরি সাইট অনুযায়ী নিচের চিকিৎসকেরা জেলা হাসপাতালে কর্মরত (বদলি হলে তথ্য পুরোনো হতে পারে)। সরকারি সময়ের পরে তাঁরা শহরের বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করেন; নামে চাপ দিলে চেম্বারের দিন-সময় দেখতে পাবেন। জেলার সব বিশেষজ্ঞের তালিকা আছে ডাক্তার ডিরেক্টরিতে।
| চিকিৎসক | বিভাগ | পদবি (উৎস অনুযায়ী) |
|---|---|---|
| ডা. মোঃ আমিরুল ইসলাম | হৃদরোগ/মেডিসিন | মেডিকেল অফিসার, মেডিসিন ইউনিট |
| ডা. মোস্তাক আহম্মেদ | হৃদরোগ/মেডিসিন | রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান |
| ডা. আশরাফুন নাহার লিপা | শিশু | সহকারী রেজিস্ট্রার, শিশু বিভাগ |
| ডা. মোঃ আরিফুল ইসলাম | শিশু | মেডিকেল অফিসার; শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ |
| ডা. আরফিন সুলতানা | গাইনি ও প্রসূতি | গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ |
| ডা. তাশরিফা বিনতে ফারুক (তুহিন) | গাইনি ও প্রসূতি | মেডিকেল অফিসার; বন্ধ্যাত্ব, গাইনী ও মহিলা রোগের চিকিৎসক |
| ডা. নাজিয়া মিরাজ (সেজুতি) | গাইনি ও প্রসূতি | গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ |
| ডা. নূরজাহান বেগম (নূরী) | গাইনি ও প্রসূতি | গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ |
| ডা. মাধবীলতা সাহা | গাইনি ও প্রসূতি | সহকারী অধ্যাপক (গাইনী এন্ড অবস) |
| ডা. মুনমুন রায় | গাইনি ও প্রসূতি | গাইনী, প্রসূতি ও বন্ধ্যাত্ব রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন |
| ডা. মোঃ আব্দুল গণি খন্দকার | গাইনি ও প্রসূতি | কনসালটেন্ট (গাইনী) |
| ডা. হাসিনাতুল ফেরদৌস (লোপা) | গাইনি ও প্রসূতি | সহকারী অধ্যাপক (গাইনী এন্ড অবস) ও কনসালটেন্ট |
| ডা. আলমগীর মোস্তাক আহাম্মদ | মেডিসিন | সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) |
| ডা. এ.এম. মহীউদ্দীন (আরিফ) | হাড়-জোড়া | কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) |
| ডা. রবিউল হক খান | চর্ম | মেডিকেল অফিসার (উৎসে চর্ম-যৌন তালিকায়) |
সিভিল সার্জনের কার্যালয়: মেডিকেল সার্টিফিকেট ও অভিযোগ
জেলা সদর হাসপাতালের পাশাপাশি পুরোনো হাসপাতাল ক্যাম্পাসে (গোপালবাড়ী) সিভিল সার্জনের কার্যালয় জেলার সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা তদারক করে। ফোন: ০২৯৯৭৭৮১০৮১, ০৯৩১৬১৩৯৬, ইমেইল: sherpur@cs.dghs.gov.bd।
- মেডিকেল সার্টিফিকেট (চিকিৎসা সনদ): নতুন চাকরি, বয়স নির্ধারণ, বিদেশগমন বা ছুটির জন্য সনদ সিভিল সার্জন অফিস থেকে দেওয়া হয়। কার্যালয়ের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী সনদের ফি ১০০ টাকা, চালানের মাধ্যমে জমা দিয়ে মূল কপি দেখাতে হয়; সঙ্গে নির্ধারিত ল্যাব টেস্টের সরকারি ফি। সময় লাগে ৩ থেকে ৭ কর্মদিবস। হজযাত্রীদের সনদ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আলাদা ফি নেই।
- অভিযোগ: সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া, দালালের হয়রানি বা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে জানানো যায়। সরকারি তথ্য ও সেবার জাতীয় নম্বর ৩৩৩-এও অভিযোগ করা যায়।
- ফোনে ডাক্তারের পরামর্শ: স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩, ২৪ ঘণ্টা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সংক্ষেপে
নালিতাবাড়ী, নকলা, শ্রীবরদী আর ঝিনাইগাতীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে। রেজিস্ট্রি অনুযায়ী প্রতিটিতে জরুরি বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি আর অ্যাম্বুলেন্স আছে। সদর উপজেলায় আলাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই; সদরের মানুষ জেলা সদর হাসপাতালেই যান। দূরের রোগীদের প্রথমে নিকটতম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়াই ভালো, প্রয়োজনে সেখান থেকে জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়।
| স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | শয্যা | ঠিকানা | ফোন |
|---|---|---|---|
| নালিতাবাড়ী সরকারি পাতা | ৫০ | নালিতাবাড়ী, শেরপুর | ০৯৩২৪৭৩০২৫, ০১৭৩০-৩২৪৫৫৮, ০১৭০১-২৪৮৬৩৭ |
| নকলা | ৫০ | নকলা, শেরপুর | ০১৭৩০-৩২৪৫৫৭, ০১৭০১-২৪৮৬৩৬, ০২৯৯৭৭৮২৯২০ |
| শ্রীবরদী সরকারি পাতা | ৫০ | সাতানী, শ্রীবরদী পৌরসভা (ওয়ার্ড নং ৭), শ্রীবরদী, শেরপুর | ০১৭৩০-৩২৪৫৫৯, ০১৭০১-২৪৮৬৩৮ |
| ঝিনাইগাতী সরকারি পাতা | ৫০ (জেলা বাতায়নে ৩১) | ঝিনাইগাতী বাজার, ঝিনাইগাতী, শেরপুর | ০১৭০১-২৪৮৬৩৫ |
শহরের অন্য সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র: মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, শেরপুর (বটতলা, ১০ শয্যা) মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, প্রসব আর পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেয়। সদর উপজেলার ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকের তদারকি করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়, শেরপুর সদর, ফোন ০২৯৯৭৭৮১৫০৩, ০১৭০১-২৪৮৩২৫। জেলায় সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের তালিকা আছে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের লেখায়।
কয়েকটি পরামর্শ
- দালাল থেকে দূরে থাকুন: গেটে বা বারান্দায় কেউ ‘তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখিয়ে দেব’ বা ‘ভালো ক্লিনিকে নিয়ে যাব’ বললে রাজি হবেন না। সব ফি সরকারি কাউন্টারে, রশিদের বিনিময়ে দিন।
- টাঙানো তালিকা দেখুন: টিকিট, পরীক্ষা, কেবিন ও অ্যাম্বুলেন্সের সরকারি ফি হাসপাতালে টাঙানো থাকার কথা। না পেলে তথ্য কাউন্টারে জিজ্ঞেস করুন।
- শুক্রবার ও ছুটির দিনে: বহির্বিভাগ বন্ধ থাকে, তবে জরুরি বিভাগ খোলা। বেসরকারি চেম্বারে বিশেষজ্ঞ দেখাতে চাইলে ডাক্তার ডিরেক্টরি দেখুন।
- ঔষধ সংরক্ষণ: হাসপাতাল থেকে পাওয়া ঔষধের নাম আর খাওয়ার নিয়ম প্রেসক্রিপশনে লিখে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন
শেরপুর সদর হাসপাতালের ফোন নম্বর কত?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রিতে দেওয়া নম্বর: ০১৭০১-২৪৮২২০, ০৯৩১৬১২৯৬, ০১৮৪৪-৫৭৭৩৯৭। জরুরি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ৯৯৯।
বহির্বিভাগ কয়টা পর্যন্ত খোলা থাকে?
সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগ সাধারণত সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলে, শুক্রবার ও সরকারি ছুটিতে বন্ধ। টিকিট কাউন্টার এর আগেই বন্ধ হতে পারে, তাই সকালে যান। জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা।
সদর হাসপাতালে কি আইসিইউ আছে?
হ্যাঁ, নবম তলায় ১০ শয্যার আইসিইউ ১৪ জুন ২০২৬ উদ্বোধন হয়েছে, তবে জনবল সংকটে সেবা সীমিত বলে খবর এসেছে। রোগী নেওয়ার আগে ফোনে শয্যা খালি আছে কি না নিশ্চিত হোন।
হাসপাতালে কি বিনা মূল্যে ঔষধ পাওয়া যায়?
বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের জন্য সরকারি সরবরাহে যে ঔষধ মজুত থাকে, তা বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। সব ঔষধ সবসময় থাকে না; না থাকলে বাইরে থেকে কিনতে হয়।
মেডিকেল সার্টিফিকেট কোথায় পাব?
চাকরি বা বিদেশগমনের মেডিকেল সার্টিফিকেট দেয় সিভিল সার্জনের কার্যালয় (গোপালবাড়ী, পুরোনো হাসপাতাল ক্যাম্পাস)। ফি ১০০ টাকা চালানে, সঙ্গে নির্ধারিত পরীক্ষার রিপোর্ট লাগে।
সদর হাসপাতাল কি ২৫০ শয্যার?
নাম ও অবকাঠামোয় ২৫০ শয্যা, কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রিতে অনুমোদিত জনবল ও রাজস্ব শয্যা এখনো ১০০। এ কারণে ডাক্তার-নার্সের সংকট আর রোগীর চাপ নিয়ে ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে।
তথ্যসূত্র
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রি: শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, নালিতাবাড়ী, নকলা, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী
- সিভিল সার্জনের কার্যালয়, শেরপুর: সিটিজেন চার্টার, কর্মকর্তাবৃন্দ
- শেরপুর জেলা তথ্য বাতায়ন: হাসপাতালের তালিকা
- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বাতায়ন: নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী
- বাংলাদেশ প্রতিদিন: পাঁচ বছর পর চালু হলো শেরপুর সদর হাসপাতালের আইসিইউ (১৪ জুন ২০২৬)
- দৈনিক ইনকিলাব: উদ্বোধনের পরও চালু হয়নি শেরপুর সদর হাসপাতালের আইসিইউ (২০২৬)
- বিডিনিউজ২৪: শেরপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ওএসডি, নতুন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ (২২ জুলাই ২০২৬), শেরপুর জেলা হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ (২০২৪)
- বাংলা ট্রিবিউন: হাসপাতাল নিজেই আইসিইউতে: সংসদে প্রিয়াঙ্কা (জুন ২০২৬)
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা: সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচ ৫০ টাকাই থাকছে
- স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩: 16263.dghs.gov.bd
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। সেবার সময়, ফি ও চালু থাকা সেবা বদলাতে পারে; যাওয়ার আগে হাসপাতালে ফোন করে নিশ্চিত হোন। এই লেখা চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য ভুল বা পুরোনো হলে আমাদের জানান।